শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ জুলাই, ২০২১ ২৩:৩২

আন্দোলনে বিমানের পাইলটরা

ঝুঁকিতে মধ্যপ্রাচ্যের চার রুট

নিজস্ব প্রতিবেদক

Google News

৩০ জুলাইয়ের পর বিমানের পাইলটরা চুক্তির বাইরে আর কোনো ফ্লাইট পরিচালনা করবেন না। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে বিমানের সবচেয়ে জনপ্রিয় চার রুট আবুধাবি, দোহা, দাম্মাম ও দুবাই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাইলটরা তাদের এ আন্দোলন কর্মসূচি পালনে অনড় থাকলে এ চার রুট বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মহামারীতে পাইলটদের বেতন কাটার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী একমাত্র আকাশ পরিবহন সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাইলটরা। পাইলটদের সংগঠন বাংলাদেশ পাইলট অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) গতকাল এক জরুরি বৈঠকে আন্দোলনের এ কঠোর কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে দেশের করোনা মহামারীতে চিকিৎসাসংক্রান্ত সরঞ্জামাদি, ওষুধপথ্য, ভ্যাকসিন পরিবহনে ফ্লাইট পরিচালনা তাদের আন্দোলনের বাইরে থাকবে।

জানা গেছে, করোনা মহামারীর ক্ষতি পোষাতে ব্যয় সংকোচনে বিমানের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু পরে পাইলটদের ওপর এ সিদ্ধান্ত বহাল রেখে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন কাটার সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার বেতন কাটার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারসংক্রান্ত অ্যাডমিন অর্ডারও জারি করা হয়। জুলাই থেকে এটি কার্যকর হবে বলে বিমান অ্যাডমিনসূত্রে জানা গেছে। আগের দিন সোমবার বাপার সভাপতি ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘করোনা মহামারীর দুঃসময়ে পাইলটরা ঝুঁকি নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন। এক বছরে ২৫ জন পাইলট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এখনো একাধিক পাইলট করোনা পজিটিভ নিয়ে হাসপাতালে রয়েছেন। আটজন পাইলটের পুরো পরিবার করোনায় আক্রান্ত। ফ্লাইট করে এসে তারা কোয়ারেন্টাইন করারও সুযোগ পাননি। ফ্লাইট নিয়ে বিদেশে গিয়ে নিজের টাকায় করোনা টেস্ট করতে হয়েছে। তার পরও তাদের বেতন কাটার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেনি বিমান। বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের কারণে একজন সিনিয়র পাইলটের বেতন সাড়ে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত কমে গেছে। মহামারীতে ফ্রন্টলাইনার পাইলটদের প্রতি চরম বৈষম্যমূলক আচরণ এটি।’

বাপার গতকালের নির্বাহী কমিটির বৈঠক সম্পর্কে ক্যাপ্টেন মাহবুবুর রহমান বলেন, অ্যাডমিন অর্ডারে পাইলটদের বেতন কাটার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে ৩০ জুলাই থেকে চুক্তির বাইরে কোনো ফ্লাইট পাইলটরা পরিচালনা করবেন না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে ৩০ জুলাই সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বিমানের পরিচালক ফ্লাইট অপারেশনকে (ডিএফও) চিঠি দিয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নেননি। উপরন্তু বেতন বৈষম্য দূর না করেই তড়িঘড়ি অ্যাডমিন অর্ডার জারি করা হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা বাধ্য হয়েছি এমন কর্মসূচি ঘোষণা করতে।’ তিনি বলেন, ‘এ ক্রান্তিকালে করোনার উৎপত্তিস্থল উহানে ফ্লাইট পরিচালনা, একটানা ৩৬ ঘণ্টা ডিউটি করা, ঢাকা-লন্ডন-ঢাকা শাটল ফ্লাইট পরিচালনা, নিজস্ব ছুটির দিনে ফ্লাইট পরিচালনা, মাসিক নির্ধারিত কর্মঘণ্টার অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা ইত্যাদি ডিউটি বিমানের প্রয়োজনে হাসিমুখে করে গেছেন আমাদের পাইলটরা।’

পাইলটরা বলেছেন, এমন সিদ্ধান্ত বিমানে বৈষম্য তৈরি করেছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘরে বসে অফিস করছেন। কিন্তু তাদের বেতন কাটার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হলো। অন্যদিকে পাইলটরা পরিবার-পরিজন ফেলে চরম ঝুঁকি নিয়ে ফ্লাইট চালিয়ে গেলেও তাদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এটি চরম অবিচার। সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে কখনই কর্তৃপক্ষের এ বিমাতাসুলভ আচরণ মেনে নেওয়া যায় না।