শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

ফিরে গেল হাজার হাজার গরু

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদের দুই-তিন দিন আগে গরুর চড়া দাম হাঁকছিলেন ব্যাপারীরা। কিন্তু ঈদের আগের দিন সেই দাম আর থাকেনি। আগের দুই দিনে ক্রেতাদের বলা দামেও আর গরু বেচতে পারেননি ব্যাপারীরা। ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বড় বড় হাট থেকে ফেরত গেছে হাজার হাজার গরু। ঈদের দিন ও ঈদের পরদিন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো ও কুষ্টিয়া-ফরিদপুরের মহাসড়কে সারি সারি গরুর ট্রাককে ফিরতে দেখা গেছে।

জানা গেছে, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো থেকে অসংখ্য খামারি ও ব্যবসায়ী কয়েক হাজার পশু বিক্রির জন্য নিয়েছিলেন ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাটে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে মানুষের কাছে অর্থের সংকট থাকায় অনেকেই এবার কোরবানি দেননি। এ জন্য গরুর চাহিদা কম ছিল। ফলে উত্তরবঙ্গ থেকে নেওয়া অর্ধেক গরুও বিক্রি হয়নি। অনলাইনে গরু বিক্রিকেও কারণ হিসেবে দেখছেন তারা। তারা বলেন,

শুধু উত্তরবঙ্গেরই অন্তত ১০ হাজার গরু অবিক্রীত রয়ে গেছে। শত শত ট্রাকে গরু ফিরিয়ে আনছেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু পথ ধরে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকেই পশু নিয়ে বাড়ি ফিরতে শুরু করেন উত্তরবঙ্গের খামারি ও ব্যবসায়ীরা। বুধবার ঈদের দিনেও অসংখ্য পশুবাহী ট্রাককে উত্তরবঙ্গে যেতে দেখা যায়। খামারি ও ব্যবসায়ীদের চোখে-মুখে ছিল হতাশা। তারা বলেন, এবার গরুতে লাভ হয়নি, ক্ষতি হয়েছে। হাটে ক্রেতা ও দাম কম থাকায় খুব বেশি পশু হয়নি। লকডাউনের কারণে ক্রেতাদের চাহিদা থাকলেও পকেটে টাকার অভাবে তারাও পশু কিনতে পারেননি। ঢাকার সবচেয়ে বড় হাট গাবতলীতে ঈদের দিন ও পরদিনও গরু বিক্রির আশায় ব্যাপারীদের বসে থাকতে দেখা যায়। গরু বিক্রি করে টাকা নগদ করার চেষ্টা করছেন তারা। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থেকে ৩২টি গরু নিয়ে এসেছিলেন ব্যাপারী আক্তার হোসেন। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত বিক্রি করেছেন ২৭টি গরু। ঈদের দিনে বিক্রি করেছেন আরও ৪টি। আর বাকি আছে মাত্র ১টি। ৩১টি গরু বিক্রি করেছি ৫০ লাখ টাকায়। এর মধ্যে ১ লাখ টাকা থেকে শুরু করে ৪ লাখ টাকা দামের গরু ছিল। এবারের হাটে আমার গরু বিক্রি করে লস হয়েছে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা। আমরা ব্যাপারীরা এবার বউ-বাচ্চা নিয়ে ঈদ করতে পারলাম না! মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের ‘বাবু অ্যাগ্রো’ থেকে মাঝারি ও বড় আকারের ৬৫টি গরু এনেছিলেন শফিকুল ইসলাম। বিক্রি করতে পেরেছেন ৪১টি। অবিক্রীত ২৪টি গরু নিয়ে গাবতলীর হাটে রয়ে যাওয়া শফিকুল জানান, এবারের বাজারে ৮০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৬ লাখ টাকা দামের গরু তিনি বিক্রি করেছেন। মোট ৫০ লাখ টাকার গরু বিক্রি হয়েছে তার। কিন্তু এখনো ৫৫ থেকে ৬০ লাখ টাকার গরু বিক্রি করতে পারেননি। কুষ্টিয়া থেকে আসা ব্যাপারী রাব্বানী বলেন, করোনা মহামারীর কারণে এবার অনেক মানুষ কোরবানি দেননি। কঠোর বিধিনিষেধের কারণে অনেক মানুষ আগে গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন। এসব কারণেই এবার পশুর হাটে গরু কম বিক্রি হয়েছে।

এই রকম আরও টপিক