শিরোনাম
বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

করোনা আরও কমলে নভেম্বরে ডিসি সম্মেলন

উবায়দুল্লাহ বাদল

করোনা সংক্রমণ কমলে আগামী নভেম্বরে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সম্মেলন করার পরিকল্পনা করছে সরকার। রেওয়াজ অনুযায়ী প্রতি বছর জুলাইয়ে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু করোনার কারণে চলতি বছর এবং গত বছর জুলাইয়ে এ সম্মেলন হয়নি। গেল জানুয়ারিতে সম্মেলন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিয়েও তা স্থগিত করা হয়। তবে করোনা সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্মেলন নিয়ে আশাবাদী সরকারের শীর্ষ মহল। তাদের মতে, শিগগিরই করোনার সংক্রমণের হার আরও কমে আসবে। এ ছাড়া সম্মেলন-সংশ্লিষ্ট সবাই টিকাও নিয়েছেন। ফলে নভেম্বরের দিকে এ সম্মেলন করলে তেমন অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা নাম প্রকাশ করে মুখ খুলতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘করোনার কারণে গত বছরও ডিসি সম্মেলন হয়নি। এরপর  চলতি বছরের জানুয়ারিতে সম্মেলন করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থগিত করা হয়। বর্তমানে করোনা সংক্রমণের হার কম। সামনে আরও কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ ছাড়া ডিসি সম্মেলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাও টিকার আওতায় এসেছেন। ইতিমধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও খুলে দেওয়া হয়েছে। কাজেই এখন ডিসি সম্মেলন করার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বড় ধরনের কোনো অঘটন না ঘটলে আগামী নভেম্বরে এ সম্মেলনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানান, এর আগে জানুয়ারিতে ডিসি সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ওই সময় মাঠ প্রশাসন থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব ও সুপারিশ এসেছিল। সেগুলো বই আকারে প্রেসেও পাঠানো হয়েছিল। স্থগিতের সিদ্ধান্ত হওয়ায় পরে আর তা বই আকারে ছাপানো হয়নি। ডিসি সম্মেলনের সিদ্ধান্ত হলে আগের প্রস্তাবসহ নতুন প্রস্তাবের সমন্বয়ে নতুন করে কার্যপত্র ছাপানো হবে। ইতিমধ্যে সব ডিসিকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই লিখিত নির্দেশনাও পাঠানো হবে। অন্য এক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানান, আসন্ন ডিসি সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয়/বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে সব ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারকে মুক্ত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সব নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন চলতি মাসেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে। সাধারণত প্রতি বছর ডিসি সম্মেলন হয় জুলাইয়ে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে ডিসি সম্মেলন শুরু হয়েছিল ১৪ জুলাই। এর আগের বছরগুলোয় জুলাইয়ে চার দিন ধরে সম্মেলন চললেও ২০১৯ সালে তা পাঁচ দিনব্যাপী হয়। সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশন হয়। এ ছাড়া একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনা, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও একটি সমাপনী অনুষ্ঠান থাকে। ২০১৯ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রথমবারের মতো প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। কার্য অধিবেশনগুলোয় মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব ও সচিবরা উপস্থিত থাকেন। সর্বশেষ ডিসি সম্মেলনে ২৪টি কার্য অধিবেশনে ৩৩৩টি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হয়। প্রতি বছর এ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দেশের ৬৪ জেলার ডিসিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের নীতিনির্ধারকরা। এ সম্মেলনের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে কার্য অধিবেশনগুলোয় মন্ত্রিপরিষদ সচিব সভাপতিত্ব করেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা ডিসিদের দিকনির্দেশনা দিয়ে বক্তব্য দেন। সম্মেলন উপলক্ষে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনাররা লিখিতভাবে মাঠ প্রশাসনের সমস্যাগুলো নিয়ে প্রস্তাব দিয়ে থাকেন। অধিবেশনের সময় এগুলো ছাড়াও ডিসিরা তাৎক্ষণিক বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম বিভাগের একজন ডিসি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ডিসিদের জন্য এ সম্মেলন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট। মাঠপর্যায়ের নানা সমস্যা এবং সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বাধাগুলো নিয়ে সম্মেলনে খোলামেলা আলোচনা হয়। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সরাসরি এর মাধ্যমে নানা ধরনের দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। এমনকি স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের চাপ ও প্রভাব মোকাবিলায় সম্মেলন থেকে দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ পাওয়া যায়। রাজশাহী বিভাগের একজন ডিসি বলেন, ‘নভেম্বরে ডিসি সম্মেলন করার পরিকল্পনা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পাইনি। হয়তো শিগগিরই পেয়ে যাব।’