রবিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ টা

প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষমতা চেয়েও পেলেন না মন্ত্রীরা

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষমতা চেয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে। বলা হয়েছিল, ‘সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন’ পরিপত্র যখন সংশোধন হবে, তখন যেন মন্ত্রীদের এই ক্ষমতা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ যুক্ত করা হয়। এখন পরিকল্পনা বিভাগের এনইসি-একনেক ও সমন্বয় অনুবিভাগ পরিপত্র সংশোধনের যে খসড়া করেছে- সেখানে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের প্রকল্প অনুমোদনে এ ধরনের কোনো ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। বরং পরিপত্রের খসড়ায় নতুন করে অনেক কিছু যুক্ত করা হলেও প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে আগের ধারাটিই বহাল রাখা হয়েছে। পরিকল্পনা বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বিদ্যমান পরিপত্রের ওপর পরিকল্পনা কমিশনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়েই খসড়াটি তৈরি করা হয়েছে। এরপরও পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ লক্ষ্যে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সংশোধিত খসড়ার ওপর তাদের মতামত তুলে ধরার সুযোগ    পাবে।

সূত্র জানায়, সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প সংক্রান্ত পরিপত্রটি সর্বশেষ জারি হয় ২০১৬ সালে। ওই পরিপত্র অনুযায়ী পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ছাড়া সরকারের অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর বিনিয়োগ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিতে পারেন না। শুধু কারিগরি প্রকল্প হলে এবং তার মোট ব্যয় যদি সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা হয়, তবে অন্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী

অনুমোদন দিতে পারেন। আর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত কোনো বিনিয়োগ প্রকল্প হলে সেটি পরিকল্পনামন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী অনুমোদন দেন। ৫০ কোটি টাকার ওপরে প্রকল্প ব্যয় হলে তা অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) পাঠাতে হয়। নতুন পরিপত্রের জন্য যে খসড়াটি হয়েছে সেখানে এই বিষয়টি অপরিবর্তিত রয়েছে। খসড়া সংশোধনীতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বিনিয়োগ প্রকল্পের ব্যয় অনূর্ধ্ব ৫০ কোটি টাকা হলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী প্রকল্পটি অনুমোদন করবেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ অবস্থায় নতুন করে পরিপত্র সংশোধনকালীন যাতে অন্য মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদেরও পরিকল্পনামন্ত্রীর মতো প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষমতা দেওয়া হয় সেই প্রস্তাব দিয়েছিল সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া সময়ের প্রয়োজনে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ায় পরিকল্পনামন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষমতা ৫০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে যেন ১৫০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয় সেটিও চাইছিল অন্য মন্ত্রণালয়গুলো। তাদের যুক্তি ছিল, এক দশক আগে বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার যা ছিল, বর্তমানে তা প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে। প্রকল্পের সংখ্যা ও ব্যয় দুটোই বেড়েছে। ফলে দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে প্রকল্প অনুমোদনে মন্ত্রীদের ক্ষমতা বাড়ানো যৌক্তিক বলে মনে করে উদ্যোগী মন্ত্রণালয়গুলো। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় যুক্তি দিয়ে বলেছিল, পরিকল্পনামন্ত্রী ছাড়া অন্য মন্ত্রীদের প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষমতা না দেওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প অনুমোদনের জন্য যেতে হয়। এতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। এর ফলে জরুরি প্রয়োজনে কোনো উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব হয় না। পরিকল্পনা বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্প অনুমোদনের সব তথ্যই পরিকল্পনা কমিশন সমন্বয় করে। এখন পৃথকভাবে বিনিয়োগ প্রকল্প উদ্যোগী মন্ত্রণালয়গুলোকে অনুমোদনের ক্ষমতা দিলে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিংয়ে জটিলতা দেখা দেবে। এ ছাড়া অন্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষমতা দিলে রাজনৈতিক ও এলাকার চাপে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প অনুমোদনের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। এতে সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা থেকে যায়।

সর্বশেষ খবর