শিরোনাম
মঙ্গলবার, ৯ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ টা

ভোগান্তি কমেনি, বেড়েছে অর্থব্যয়

গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতি থেকেও আলাদা পরীক্ষা নিচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

আকতারুজ্জামান

ভোগান্তি কমেনি, বেড়েছে অর্থব্যয়

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সম্মান প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ভোগান্তি ও অর্থব্যয় কমাতে আয়োজন করা হচ্ছে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার। কিন্তু এই গুচ্ছ পদ্ধতিতে অংশ নিয়ে আগের চেয়েও বেড়েছে ভোগান্তি, কমেনি অর্থব্যয়ও- এমন অভিযোগ ভর্তিচ্ছু ও অভিভাবকদের। কারণ, গুচ্ছ পদ্ধতির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ছাত্রছাত্রীদের ভর্তির জন্য আবেদন করতে হয় ভিন্ন ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর এ জন্য পরিশোধ করতে হয় আলাদা আলাদা ফি। যদিও গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতির দায়িত্বে থাকা কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, ভোগান্তি কমাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছরের মতো ভোগান্তি থাকবে না বলেও জানিয়েছেন তারা। আর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতিতে থেকেও শিক্ষার্থী ভর্তি করতে প্রকাশ করেছে আলাদা ভর্তি বিজ্ঞপ্তি। এতে আবেদন করতেই আদায় করা হচ্ছে গলাকাটা ফি- ১ হাজার টাকা। এ ছাড়া বিজ্ঞান ও বাণিজ্যের শিক্ষার্থীদেরও পরীক্ষা দিতে হবে বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে যা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সারা দেশের ভর্তিচ্ছুরা।

তথ্যমতে- সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) ধারার ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হচ্ছে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার। এ পরীক্ষায় বসতে ভর্তিচ্ছুদের দিতে হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। ইতোমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের (এ ইউনিট) শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। জানা গেছে, কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে ছাত্রছাত্রীরা একটি স্কোর পেলেও এখন প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা আলাদা আবেদন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে প্রতি আবেদনের ক্ষেত্রে পরিশোধ করতে হবে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, যা অনেক ভর্তিচ্ছুক ও অভিভাবকের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়াবে। জিএসটি গুচ্ছভুক্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতির ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে স্পোর্টস বা খেলাধুলা বিষয়ক বিষয়ে আলাদা পরীক্ষা নেওয়ার কথা না থাকলেও এই বিশ্ববিদ্যালয় শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে আলাদা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আর সেক্ষেত্রে ভর্তিচ্ছুদের ১ হাজার টাকা জমা দিয়ে আবেদন করতে বলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার তৈরি হলেও অভিযোগ রয়েছে মোটা অঙ্কের আবেদন ফির ভাগাভাগির জন্যই এ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসেনি কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া এ বিষয়ে ভর্তি হতে ছাত্র-ছাত্রীদের সরাসরি পরীক্ষায় বসতে হবে। বিজ্ঞান ও বাণিজ্য ধারা থেকে আসা শিক্ষার্থীদেরও বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে, যা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ভর্তিচ্ছুদের পাশাপাশি সিনিয়র শিক্ষকরাও। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিন্ডিকেট সদস্য ও ইইই বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, একটি বিভাগের জন্য আলাদা বিজ্ঞপ্তি কেন্দ্রীয় ভর্তি নির্দেশিকার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতির মূল লক্ষ্যের পরিপন্থী। শুধু তা-ই নয়, বিজ্ঞান ও বাণিজ্যের শিক্ষার্থীকে নিজের বিষয়ের বাইরে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করার মধ্যে দুরভিসন্ধি রয়েছে প্রশাসনের। ভর্তিচ্ছুদের দুর্ভোগ লাঘবের কথা চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার দাবি জানাই। আলাদা ভর্তি বিজ্ঞপ্তি বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আবদুস সালামকে কল করা হলে একান্ত সচিব পরিচয় দিয়ে জানান ‘উপাচার্য ব্যস্ত রয়েছেন’।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অপেক্ষায় থাকা আশিকুর রহমান বলেন, অধিকাংশ ভর্তিচ্ছুকই মধ্যবিত্ত পরিবারের। কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার আবেদনে ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। এখন প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনের জন্য যদি ফের আবেদন ফি নেয় তবে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার গুরুত্ব আর থাকল কোথায়। এদিকে গত বছর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার পরও প্রতি ইউনিটে ভর্তি আবেদনের জন্য ৬০০ টাকা নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরও এমন গলা কাটা ফি আরোপ হলে ভর্তিচ্ছুরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন সেই প্রশ্ন অভিভাবকদের। জিএসটি গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তি কমিটির টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক এবং চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাছিম আখতার বলেন, গত বছর গুচ্ছ ভর্তি কমিটি নিয়ে যেসব ভোগান্তির অভিযোগ ছিল সেগুলো লাঘব করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ফের বৈঠকের আয়োজন করা হবে। সেখানে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অভিভাবকরা বলছেন, প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষায় আবেদন ফির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আয় করেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা।

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার কারণে শিক্ষকদের আয় কম হয়েছে, তাই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের আবেদন ফি নেওয়া হচ্ছে। অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু বলেন, গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিয়ে ফের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আলাদা আলাদা ফি চাইলে সেটি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হবে বলে মনে করি। উচ্চশিক্ষার বিদ্যাপীঠে এমনটা আমরা প্রত্যাশা করি না। কতিপয় শিক্ষক আর্থিকভাবে লাভবান হতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদনের ক্ষেত্রে চড়া ফি নির্ধারণ করে থাকেন। আমরা চাই এবার যেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আলাদাভাবে এই ফি না নেয়।

 

সর্বশেষ খবর