শিরোনাম
শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০ টা

বিদেশি এয়ারলাইনসে চাকরি দেওয়ার নামে ভয়াবহ প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদেশি এয়ারলাইনসে এয়ার হোস্টেজসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পদে লোভনীয় বেতনে চাকরি দেওয়ার ফাঁদ পেতেছিল ওরা। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপনও দিয়েছিল। অর্ধশত চাকরিপ্রত্যাশীর থেকে কেবল এক মাসেই হাতিয়ে নিয়েছিল কোটি কোটি টাকা। তাদের লক্ষ্য ছিল আগামী ছয় মাসে অন্তত ৩০ কোটি টাকা। তবে এবার আর শেষরক্ষা হয়নি। চক্রটির হোতাসহ চারজনকে পাকড়াও করেছে র‌্যাব। র‌্যাব বলছে, চক্রের হোতা হোমিওপ্যাথি ওষুধ বিক্রেতা এম এ হক আলম ফরহাদী (৬০)। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মেহেরাব হোসেন (২১), রাসেল হোসাইন (৩০) ও শাহাদাত হোসেন (৩৫)।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র?্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন র?্যাব-১০-এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন। তিনি বলেন, প্রতারক চক্রটি মাত্র এক মাসে চটকদার বিজ্ঞাপনে বিদেশি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার কথা বলে শুধু ইন্টারভিউর নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পাশাপাশি ভাটারায় ডগমা ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা বলে টাকা আদায়ের চুক্তি করে। এর মাধ্যমেও বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল।

র?্যাব-১০ অধিনায়ক বলেন, প্রতারক চক্রের মূলহোতা আলম ফরহাদী সামান্য পড়াশোনা করে ফেনীতে নিজ এলাকায় হোমিওপ্যাথি ওষুধ বিক্রি করতেন। পরে ঢাকায় এসে অল্প সময়ে বেশি টাকা আয় করতে বিভিন্ন প্রতারণা কাজে জড়িয়ে যান। নিজেকে কখনো বিসিএস শিক্ষা কর্মকর্তা ও দুদক কর্মকর্তা পরিচয় দিতেন। এমনকি ভুক্তভোগী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে তার তিন সন্তান সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিতেন। সম্প্রতি তিনি ‘অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ কোম্পানি লিমিটেড’ (এএনএ) নামে জাপানি এয়ারওয়েজ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে পারেন। পরে এ প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার নামে ফাঁদ পাতেন। বিজ্ঞাপন দেখে অন্তত ২০০ চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেন। এর মধ্যে বাছাই করে ১৭০ জনকে চাকরির ইন্টারভিউর জন্য ডাকা হয়। ইন্টারভিউতে বসার ক্ষেত্রে অগ্রিম দিতে হয়েছিল ১ থেকে ২ লাখ টাকা। এরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে আরও ৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়।

র‌্যাব গ্রেফতারদের কাছ থেকে চাকরিপ্রার্থীদের থেকে হাতিয়ে নেওয়া নগদ ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা, প্রতারণায় ব্যবহৃত ল্যাপটপ, মনিটর, বিপুল পরিমাণ চাকরির আবেদনপত্রসহ প্রতারণায় ব্যবহৃত মালামাল জব্দ করেছে।

ফরিদ উদ্দীন আরও বলেন, গ্রেফতার আলম ফরহাদী র‌্যাবের কাছেও ১৮-১৯ বছর ধরে দুদকের কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন বলে দাবি করেন। যদিও যাচাইবাছাই শেষে জানা যায় তিনি সরকারি কোনো পদেই ছিলেন না। ফরহাদীর বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশান থানায় প্রতারণা ও মানি লন্ডারিংয়ের দুটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া গ্রেফতার মেহেরাব হোসেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। চাকরির খোঁজ করতে ফরহাদীর সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে মোটা অঙ্কের টাকা বেতনের প্রলোভনে তিনি এ চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে যান। প্রতিষ্ঠানটির কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন তিনি। র‌্যাব-১০ অধিনায়ক জানান, গ্রেফতার শাহাদাত হোসেন পড়ালেখা শেষ করে বেকার ছিলেন। এর আগে কয়েক মাস একটি এয়ার টিকিটিং কোম্পানিতে চাকরি করেন। সহকর্মীর মাধ্যমে ফরহাদীর সঙ্গে পরিচয় হলে চক্রে যোগ দিয়ে রিজারভেশন অফিসার হিসেবে কাজ শুরু করেন। গ্রেফতার রাসেল হোসাইন পড়াশোনা শেষে চাকরি খুঁজতে গিয়ে ফরহাদীর সঙ্গে পরিচয়। পরে ফরহাদীর নতুন কার্যালয়ের অফিসসহায়ক হিসেবে কাজ শুরু করেন। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানায় র‌্যাব।

সর্বশেষ খবর