শিরোনাম
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর, ২০১৯ ১৭:২২

বাসায় ফিরেও অফিসের কাজ করে ডাকছেন বিপদ

অনলাইন ডেস্ক

বাসায় ফিরেও অফিসের কাজ করে ডাকছেন বিপদ
প্রতীকী ছবি

প্রতিদিনের দৌড়ঝাঁপে ব্যাপকহারে চাপ পড়ে শরীরে। চাপ নেওয়ার ফলে আমাদের শরীরে বাসা বাঁধে নানা ধরনের রোগ। রক্তচাপ থেকে শুরু করে, রক্তে শর্করার মাত্রা কিছুই নিয়ন্ত্রণে থাকে না। বাড়ে কোলেস্টেরলের মাত্রা, দেখা দেয় হার্টের সমস্যাও। তাছাড়া মানসিক অবসাদের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত চাপ।

চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিকিৎসকরা নিয়মমাফিক খাওয়াদাওয়া এবং শরীরচর্চার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে টেনশন কমাতে বললেই যেমন টেনশন কমে না, তেমনই চাপ সরানোর কিছু উপায় অবলম্বন করলেই যে চাপ চিরতরে চলে যাবে, এমন নয়। আসলে চাপের কারণ জানতে পারলে লড়াই অনেকটা সহজ হয়। ঠিক কী কারণে চাপ বাড়ছে তা জানলে নিয়ন্ত্রণ করতে পারা যায়।

আধুনিক গবেষণা বলছে, ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে কর্মস্থলের চাপ প্রায় তিনগুণ স্ট্রেসের মুখে ফেলছে। অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পরেও অফিস সংক্রান্ত মেসেজ, কল কিংবা ই-মেইল ঢুকতে থাকে প্রায় বিশ্বব্যপী ৫৪ শতাংশ মানুষের মোবাইলে। না চাইলেও অফিসের কাজ বাড়িতে এসে করতে হয় অনেককে। আসলে আমাদের জীবন গতি ও প্রযুক্তির দ্বারা প্রভাবিত হয় অনেক বেশি। ফলে আগে যে কাজ আমাদের অফিসের গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, তা খুব সহজেই এখন ঢুকে পড়ছে আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে।

সম্প্রতি ‘ভার্জিনিয়া টেক’ নামক একটি সংস্থা ‘কিলিং মি সফ‌্টলি: ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশন মনিটরিং অ্যান্ড এমপ্লয়ি অ্যান্ড সিগনিফিক্যান্ট আদার ওয়েল বিয়িং’ শীর্ষক একটি গবেষণা করে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ছুটির পরেও অফিসের কাজ সারতে অথবা অফিস সংক্রান্ত মেসেজ কিংবা মেইলের উত্তর দিতে গিয়ে কর্মীরা তাদের ব্যক্তিগত দায়িত্বগুলো ঠিকভাবে পালন করে উঠতে পারছেন না। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তাদের ব্যক্তিগত জীবনও। এই সমীক্ষায় যুক্ত অন্যতম গবেষক উইলিয়াম বেকারের মতে, ফলে স্ট্রেস আর উদ্বেগ বাড়ছে, ক্রমশ কমছে উদ্ভাবনী ক্ষমতা।

এ থেকে বাঁচার উপায়
পরীক্ষা চালানো প্রায় ৩২২ জন মার্কিনিকে অফিসের চাপ থেকে সরিয়ে এনে ও বাড়ি ফিরে অফিস সংক্রান্ত আলোচনা বন্ধ করে সৃজনশীল কোনো কাজে অংশ নেওয়ানোর পর দেখা যায়, তাদের স্ট্রেসের প্রায় ৭৫ ভাগ উধাও হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য দেশের ক্ষেত্রেও এমন ফল আসবে বলেই মত গবেষকদের। এ প্রসঙ্গে মনস্তত্ত্ববিদ অমিতাভ মুখার্জি জানান, কাজের চাপ শুধু অফিস বলে নয়, পেশাদার সব ক্ষেত্রেই রয়েছে। এ যুগে বেঁচে থাকার জন্য রুজি-রোজগারকে অবহেলা করলেও হয় না। এর সঙ্গে যুক্ত হয় নানা অফিসের বিভিন্ন নিয়ম। সব মিলিয়ে চাপ নিতে না চাইলেও চাপ নিয়ে ফেলি আমরা। অফিসের সহকর্মীদের মনোভাব, কাজের ধরন, কাজের সেক্টর, পরিবেশ সব কিছুর ওপরই এটা নির্ভর করে। তাই চেষ্টা করতে হবে চাপ এলেও কতটা নিয়ন্ত্রমে রাখা যায় তা, নইলে শরীর ও মন সবই সমস্যায় ফেলবে।

চিকিৎসকের পরামর্শ, খুব প্রয়োজন না থাকলে কাজের শেষে বাড়ি ফেরার পর আর অফিসের কাজে হাত দেবেন না। হয়তো ফোন বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। তাই চেষ্টা করুন, কাছে একটি বিকল্প ফোন নম্বর রাখার, যা আপনি অফিস সংক্রান্ত ব্যাপারে কখনোই ব্যবহার করবেন না। যদি তাও সম্ভব না হয়, তাহলে অফিস সংক্রান্ত মেসেজের উত্তর দেওয়া নিয়ন্ত্রণে আনুন। 

এ ছাড়া স্ট্রেসের কারণ যদি আপনার ব্যক্তিগত জীবনে কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তা কাছের মানুষ ,বন্ধবান্ধবদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করুন। স্ট্রেস নিরাময়ের অন্যতন ভালো উপায় মেডিটেশন। নিয়মিত কিছু সময় বের করে নিয়ে মেডিটেশন করাও খুব জরুরি। সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য