শিরোনাম
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৮:৩২
প্রিন্ট করুন printer

করোনাকালে অনলাইনে বেড়েছে যৌন হয়রানি

অনলাইন ডেস্ক

করোনাকালে অনলাইনে বেড়েছে যৌন হয়রানি
প্রতীকী ছবি

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিগত বছরগুলোতে দেশে শতকরা ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ মেয়ে শিশু অনলাইনে যৌন শোষণ, হয়রানি এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছে। অথচ কোভিড পরবর্তী জরিপ পরিচালনায় দেখা যায় এই হার বেড়েছে প্রায় চারগুণ।

রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। ২০২০ সালে শিশুদের বিরুদ্ধে অনলাইনে যৌন শােষনের ফলে সৃষ্ট ঝুঁকি ও পরিস্থিতি যাচাই এবং প্রবণতা বিশ্লেষণ বিষয়ক এক গবেষণা পরিচালনা করে।

সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির শিশু অধিকার ইউনিটের সমন্বয়ক ওম্বিকা রায় বলেন, দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ পাশ হয়েছে ঠিকই কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এই আইনে অনলাইনে শিশুদের দ্বারা শিশু নির্যাতন বিষয়টিকে চিহ্নিত করে আলাদা কোনাে বিধান রাখা হয়নি। ফলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা বেড়েই চলেছে। যদিও বেশি বয়সি শিশুরা কম বয়সি শিশুদের চেয়ে অধিক মাত্রায় অনলাইনে নিপীড়নের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। তবে সার্বিকভাবে সব শিশুই ক্ষতিকর কনটেন্ট, যৌন হয়রানি এবং নিপীড়নের আশঙ্কায় রয়েছে।

আসক জানায়, জানুয়ারি মাসে শিশু অধিকার ইউনিট চারটি বিভাগের ৫টি জেলায় একটি সংক্ষিপ্ত জরিপ পরিচালনা করেছে।  

এই জরিপের মূল লক্ষ্য ছিল করােনাকালে শিশুদের অনলাইনে ঝুঁকির মাত্রা ভয়াবহতা সম্পর্কে বাস্তবিক তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা জরিপ কার্যক্রমটি যথাক্রমে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সাতক্ষীরা জেলায় পরিচালিত হয়েছে।

জরিপের প্রাপ্ত ফল থেকে জানা যায়, ৩০ শতাংশ  শিশু জানিয়েছেন, করােনাকালে তারা কোনো না কোনোভাবে ইন্টারনেটে নিপীড়ন বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এছাড়া ১২ শতাংশ শিশু এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। নিপীড়িত শিশুদের ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ হচ্ছে কন্যা শিশু এবং ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ ছেলে শিশু।

করােনাকালে শিশুরা যেসব ধরনে নির্যাতিত হয়েছিল তার মধ্যে উল্লেখযােগ্য ছিল শিশুদের ব্যক্তিগত ও অসংবেদনশীল তথ্য ইন্টারনেটে প্রকাশ করা, অনলাইনে যৌন হয়রানি ও যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া, অশালীন প্রস্তাব দেওয়া, সাইবার বুলিং ব্ল্যাকমেইলিং, পর্নোগ্রাফি এবং কোনো না কোনোভাবে অনলাইনে যৌনতা বিষয়ক ছবি বা তথ্য দেখতে পাওয়া ইত্যাদি।

সংবাদ সম্মেলনে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আসকের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর অ্যাডভোকেট নীনা গোস্বামী।

বিডি প্রতিদিন/আরাফাত


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর