শিরোনাম
প্রকাশ : ৩১ জুলাই, ২০২০ ১৯:৩৭
আপডেট : ৩১ জুলাই, ২০২০ ১৯:৫২

সুখ দুঃখ মিলিয়েই জীবন

আবু তাহের খোকন

সুখ দুঃখ মিলিয়েই জীবন

জীবন কারো কাছে ছোট। কারো কাছ বড়। কারো কাছে আনন্দের। কারো কাছে বেদনার।

একজন ধনী সুখী মানুষকে প্রশ্ন করলে বলবে, সুখ আনুভব করার সময় কই? বাঁচবোই বা কতদিন?
একজন অভাবী অসুখী মানুষকে প্রশ্ন করলে বলবে, আর বাঁচতে চাইনা। দিন আর শেষ হয় না। মরতে পারলেই এখন বাঁচি। জীবনের প্রতি কখনো মায়া হয়। কখনো ঘৃণা হয়।

ভালো বন্ধু পেলে, প্রেমে পড়লে, সংসারে বা পরিবারে নতুন কেউ আসলে যেমন সন্তান আসলে বা হঠাৎ করে অনেক টাকার মালিক হলে গেলে জীবনের প্রতি মায়া জন্মায়। তখনই মনে হয়, ‌''মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই''। আবার টাকা-পয়সার অভাব হলে, ভালো বন্ধু না থাকলে, জীবনে প্রেম না থাকলে, সংসারে অশান্তি থাকলে, জীবনের মায়া আর কাউকে টানে না। কোনো মায়ার বাঁধনই তাকে আর বেঁধে রাখতে পারে না। হতাশায় জীবনের প্রতি আসে ঘৃণা।

তবে কথা গুলো সমাজের সকল স্তরের মানুষের কথা নয়। এই কথাগুলো কোনো একটি শ্রেণির মানুষের। অতি মাত্রায় যারা সুখ উপভোগ করেও আরও না পাবার কষ্টে ভোগে। ধনী-গরীব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবাই যেন জীবনের এই বৃত্তের কাছে এসে নিজেকে নিরুপায় মনে করে। সময় বদলেছে, সমাজ বদলেছে, বদলেছে আমাদের জীবনধারা। কিন্তু বদলায়নি জীবনের ধ্রুব বাস্তবতা। আর তাইতো জীবনের ক্ষুদ্রতা, সময়ের গতি নিয়ে মানুষের একজনের এক একরকম অভিযোগ।

জীবনটা কঠিন না, বাস্তবতা অনেক কঠিন। আর বাস্তবতাকে মেনে নিতে পারি না বলে জীবন কঠিন মনে হয়। আমরা অনেকেই মনে করে থাকি, এই কঠিন জিনিসটি থেকে যতোটা দূরে থাকা যায় ততোটাই আমাদের জন্য ভালো। কিন্তু আসলেই কি তাই? অবশ্যই নয়। বাস্তবতাকে সত্য বলে যতো দ্রুত আমরা মেনে নিতে পারবো ততোই আমাদের জীবনের সমস্যা একে একে দূরে যেতে থাকবে। মেনে নিতে শেখাটা যতো দেরিতে হবে ততোই জীবনে দুঃখ বাড়তে থাকবে। জীবন আপনাকে যা দিয়েছে তাকে গ্রহণ করা এবং জীবন যে রকম তাকে সেভাবেই আত্তীকরণ করার যে সামর্থ্য, তার মধ্যেই সুখের চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে।

সঠিকভাবে সুখ পরিমাপ করা অত্যন্ত কঠিন। সুখের উৎস অসংখ্য। ঘর বাঁধায় সুখ। উত্তম স্ত্রীতে সুখ। ভালো সন্তানে সুখ। বিত্তবৈভবে সুখ। আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যে সুখ। কারো আবার কল্যাণকর কাজে বা সেবায় সুখ। সৎ জীবনযাপনে সুখ। ক্ষমতায় সুখ। কারো আনুগত্যে সুখ। নিরাপত্তায় সুখ। শান্তিতে সুখ। এ রকম আরো নানা বিষয়ে সুখ বিদ্যমান। ঠিক বিপরীতগুলো দুখের কারণ।

সুখের স্বপ্ন সবাই দেখে। সারা দিন যা কিছু দেখি কিংবা শুনি, ঐগুলি ধারাবাহিক ছবি ও আবেগের সমষ্টি। যা ঘুমের সময় মানুষের মনের মধ্যে স্বপ্ন হয়ে আসে। এগুলো খালি পেটে, খালি পকেটে অথবা খালি পায়ে হাঁটতে হাঁটতে দেখা কল্পনা হতে পারে। অবচেতন মনের কথা হতে পারে। বা অন্য কিছুও হতে পারে। শ্রেণিবিন্যাস করা বেশ কষ্টকর। সাধারনত মানুষ অনেক স্বপ্ন দেখে। সবার সব স্বপ্ন পুরন হয় না। সে জন্য সব মনে রাখতে পারে না।

স্বপ্ন পুরন হয়নি বলে নিজেকে দুখি ভাবাটাই হলো জীবনটা কে কষ্টের ভিতর ছুঁড়ে ফেলা। আপনি যখন নিজেকে দুখি এবং ছোট মনে করছেন তখন নিজের চাইতে নিচের অবস্থানের মানুষটিকে দেখুন। আপনার মতো কিংবা আপনার চেয়ে অনেক যোগ্য মানুষ আপনার চেয়ে অনেকে বেশি দুখি। অনেক কষ্টে আছে তারা। দেখবেন আপনি অনেকের চাইতে বেশিই ভালো আছেন। এটা যেমন সত্য, আবার নিজেকে সামনে এগিয়ে নিতে চাইবেন তখন আপনি নিজের থেকে বড় অবস্থানের দিকে তাকাবেন।


ভাবতে হবে আমার মত যোগ্য ব্যক্তি আমার থেকে ভালো থাকলে, ভালো পারলে আমি কেন পারবো না।জীবনের বাস্তবতা হচ্ছে, জীবন একই ধারায় চলে না। সুখ যেমন সারাজীবন থাকে না, দুঃখও তেমনি সারাজীবন থাকে না। 

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা যেমন বলেছেন, নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে সুখ রয়েছে। (সুরা আশ শারহ: আয়াত ৬) সুখ দুঃখ নিয়েই জীবন। দুঃখ কষ্ট সবাই কে ভোগ করতে হয়। ভোগ করাটা, এক একজনের এক এক রকম। কেউ কোরানির জন্য সবচেয়ে বড় গরু ক্রয় করে বাসার সামনে বেঁধে রেখে মানুষকে দেখিয়ে আনন্দ পায়। আবার বাড়ির সামনে গরীবের বাচ্চারা ঐ গরু দেখে অনেক আনন্দ পায়। গরীবের মাঝে মাংস বিলি করে কেউ আনন্দ পায়। সেই মাংস নিয়ে রান্না করে মজা করে খেয়ে আনন্দ পায়। দেওয়ার মধ্যে যেমন আনন্দ আছে পাওয়ার মধ্যেও আনন্দ আছে। যেমন একটা পথ শিশু শীতে কাঁপতে কাঁপতে ফুটপাতে ইট মাথায় দিয়ে হয়ে ঘুমিয়ে পড়ার পরে শীত কী সে বুঝতে পারে না। তেমনি একজন ধনীর সন্তান শীত লাগবার পর লেপের নিচে শুয়ে ঘুমানোর পরে সেও বুঝলো না শীত কী। জীবনে আমরা সবাই কমবেশি ভুক্তভোগী। এর নামই তো জীবন। মানুষের জীবনটা সুখ দুঃখ মিলিয়েই তৈরি। খুশি মনে কষ্টটুকু মেনে নিয়ে এগিয়ে চলার মধ্যে আছে অসীম আনন্দ।

ভুলে গেলে চলবে না, আজকে যিনি খুব ভালো আছেন, কাল তিনি পথের ফকির বনে যেতে পারেন। দুঃখ যেমন আসে, সুখও আসে। তবে তার জন্য ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করতে হয়। 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর