শিরোনাম
প্রকাশ : ৯ আগস্ট, ২০২০ ১১:২১

বেকার ভাতা ৪০০ ডলার

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশেও স্বস্তি নেই আমেরিকায়

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশেও স্বস্তি নেই আমেরিকায়

রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাটরা ঐক্যবদ্ধ হতে না পারায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনাভাইরাসের কারণে বেকার হয়ে পড়া আমেরিকানদের সাপ্তাহিক ভাতা ৪০০ ডলার নির্ধারণ করে নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন। এ ছাড়া বকেয়া ভাড়ার জন্যে উচ্ছেদ বন্ধ, স্টুডেন্ট ঋণের জন্যে সামনের বছর পর্যন্ত চাপ না দেওয়া এবং লাখ ডলারের কম বেতনের ওপর কর মওকুফের আদেশও জারি করেন তিনি।

গতকাল শনিবার জারিকৃত এই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেকাররা ভাতা পাবেন। 

করোনা শুরুর পরই কংগ্রেসে ৩.২ ট্রিলিয়ন ডলারের ‘কেয়ারস অ্যাক্ট’ বিল পাশ হয়। সে অনুযায়ী ৩১ জুলাই পর্যন্ত বেকাররা সপ্তাহে ৬০০ ডলার করে পেয়েছেন ফেডারেল তহবিল থেকে। করোনার তাণ্ডব অব্যাহত থাকায় এই ভাতা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত রাখতে ১৫ মে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে ‘হিরোজ অ্যাক্ট’ বিল (৩.৪ ট্রিলিয়ন ডলার) পাশ করেন। কিন্তু সিনেটের রিপাবলিকানরা সপ্তাহে ২০০ ডলার করে প্রদানের প্রস্তাব করেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষ বিপরীত অবস্থানে অনড় থাকায় দুই সপ্তাহ থেকে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে ডেমোক্র্যাটদের সাথে দেন-দরবার চলছিল। 

তবে শুক্রবার তা ভেস্তে যাবার পরই এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনা রিলিফ খাতে এই নির্বাহী আদেশ জারির আভাস দিয়েছিলেন।
 
ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশ কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এসেছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট নেতা চাক শ্যুমার হুমকি দিয়েছেন আদালতে যাবার। অর্থনীতি-বিশ্লেষকরা বলেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ব্যতীত প্রেসিডেন্ট এ ধরনের আদেশ দিতে পারেন না। কারণ, অর্থ বরাদ্দের এখতিয়ার কেবলমাত্র কংগ্রেসেরই রয়েছে। অবশ্য ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী ‘কেয়ারস অ্যাক্ট’ বরাদ্দকৃত অর্থের বড় একটি অংশ ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট অথরিটির (ফেমা ) খাতে রয়েছে। সেখান থেকে বেকার ভাতা প্রদান করলে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। 

এদিকে, ৩ নভেম্বর নির্বাচনে ভোটারদের পক্ষে টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যাটরা। ট্রাম্পের এই নির্বাহী আদেশের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন সিনেটে রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল। 

তিনি বলেছেন, করোনায় বিপর্যস্ত আমেরিকানদের পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল। ডেমোক্র্যাটরা সে ক্ষেত্রে চরম উদাসীনতা দেখাচ্ছিলেন। খেটে খাওয়া মানুষের জন্যে ডেমোক্র্যাটদের ন্যূনতম দরদ দেখা যাচ্ছিল না। এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাচ্ছি। 

অপরদিকে, ডেমোক্র্যাটরা কঠোর সমালোচনা করেছেন। ওরেগণের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রন উয়াইডেন এক টুইটে বলেছেন, ‘আমেরিকানরা যখন কঠিন একটি পরিস্থিতির মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে, সে সময়ে ট্রাম্প ও তার দলীয় লোকজন তামশা করছেন। বেকার ভাতা ৬০০ ডলার করতে আমরা ১৫ মে প্রতিনিধি পরিষদে বিল পাশ করা সত্বেও সিনেটে রিপাবলিকানরা নির্বিকার ছিলেন। শেষ মুহূর্তে তারা এক ট্রিলিয়ন ডলারের একটি প্রস্তাব পেশ করেছেন-যা বাস্তবতার পরিপন্থী। সপ্তাহে ২০০ ডলারের বেকার ভাতায় কীভাবে চলবে একটি পরিবার-তা ভেবে দেখারও অবকাশ নেই রিপাবলিকানদের।’

ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের জন্যে নামমাত্র সুদে দীর্ঘমেয়াদি পিপিপি (পে-চেক প্রটেকশন প্রোগ্রাম) ঋণ কর্মসূচি, করোনার কারণে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্টেট ও সিটি বাজেটে বড় ধরনের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে ডেমোক্র্যাটরা যে প্রস্তাব দিয়েছে, সে ব্যাপারে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে কিছুই নেই। এমনকি রিপাবলিকানরাও সিনেটের প্রস্তাবে তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেনি। এ অবস্থায় জনমনে অস্বস্তি বেড়েছে। কারণ, বেকার ভাতা ৩১ জুলাইয়ের পর বন্ধ হওয়ায় অনেকে বাসা ভাড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।  

এদিকে, ক্যাপিটল হিলে গত শুক্রবার রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষ ৪ নেতার সাথে সাক্ষাৎ করেন ৩৪ কংগ্রেসম্যান। তারা আবেদন জানিয়েছেন, কর প্রদানকারী অবৈধ অভিবাসীদেরকেও করোনা রিলিফ ফান্ডের অন্তর্ভুক্ত করতে। 

নিউইয়র্কে ২৫ সহস্রাধিক বাংলাদেশিসহ এ ধরনের ২ লাখ অভিবাসী রয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়। তারা নিয়মিতভাবে কর প্রদান করছেন। অথচ করোনা রিলিফ ফান্ডের একটি পয়সাও তারা পাননি। এমনকি, অবৈধ অভিবাসী মা-বাবার সন্তানেরা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করা সত্বেও একটি পয়সাও পাননি। এমন অবস্থার অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা। 

শিগগিরই যে বিল পাশ হতে যাচ্ছে, সেখানে যেন এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে-তা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। উল্লেখ করা হয় যে, প্রতিনিধি পরিষদে পাশ হওয়া ‘হিরোজ বিল’-এ এসব প্রসঙ্গ রয়েছে। কিন্তু রিপাবলিকানরা তা করতে চাচ্ছেন না। 

বৈঠকের সময় ৩৪ কংগ্রেসম্যানের স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অবৈধ অভিবাসীর অনেকেই করোনায় আক্রান্তদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। হাসপাতাল, নার্সিং হোম, বাস, রেল সার্ভিসেও কাজ করছেন নিজেদের জীবন বিপন্ন জেনেও। 

এই স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারীর মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং, আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিয়ো-করটেজ, নিদিয়া ভ্যালেস্কুয়েজ, জেরী নেদলার, হোযে স্যারানো, ইয়েভেটি ক্লার্ক প্রমুখ। তারা সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল ও সংখ্যালঘিষ্ঠ দলের দুই নেতার সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হয়ে অভিবাসীদের মানবিকতার দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন।

বিডি প্রতিদিন/এমআই 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর