পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে ‘কাজা দো বাংলাদেশে’র উদ্যোগে শহরের প্রাণকেন্দ্রের ‘মের্কাদো দে কালতুরাস’ হলে দিনব্যাপী বিজয় মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজনে কয়েক হাজার প্রবাসী বাংলাদেশির উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানস্থল ছিল উৎসবমুখর।
অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন জলের গানের কণ্ঠশিল্পী রাহুল আনন্দ, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শিল্পী ওয়াহিদ, ইতালিপ্রবাসী শিল্পী শ্রাবণী এবং স্থানীয় শিল্পী শামসুল হক ও মাইনুল ইসলাম। জনপ্রিয় সব গানে দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন শিল্পীরা।
আয়োজক সংগঠন কাজা দো বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ জানান, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এই উৎসবে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এ বিজয় উৎসবে প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। আয়োজকরা জানান, পর্তুগালে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য এটিই সবচেয়ে বড় বিজয় উৎসব।
উদ্বোধনী পর্বে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে পরিবেশিত হয় পর্তুগালের জাতীয় সংগীত। সংগঠনের সভাপতি রনি হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শহীদ আহমদ প্রিন্সের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টা রানা তসলিম উদ্দীন। এ সময় পর্তুগালে বাংলাদেশ দূতাবাসের দূতালয় প্রধান গোলাম সরওয়ার, স্থানীয় জুন্তা আরিয়েসের প্রেসিডেন্ট জোয়াও জাইমে পিরেস (João Jaime Pires) এবং প্রধান উপদেষ্টা রানা তসলিম উদ্দীনকে উত্তরীয় পরিয়ে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কাজা দো বাংলাদেশের মাসুম আহমেদ, ইকবাল হোসাইন কাঞ্চন, শাহিনুর ইসলাম ও হাফিজ আল আসাদ।
বিজয় মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল সংগীত, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি ও দেশাত্মবোধক গান। প্রবাসী শিল্পীদের পরিবেশনায় পুরো অনুষ্ঠানস্থল হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। ফ্রান্সে পড়াশোনা করা শিল্পী রাহুল আনন্দ প্রথমবারের মতো ইউরোপে কোনো অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন।
মেলায় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্প, গ্রামীণ সংস্কৃতির নিদর্শন ও দেশীয় খাবারের স্টল দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়।
উৎসবে অংশগ্রহণকারী প্রবাসীদের মতে, লিসবনে এর আগে কখনো এত বড় পরিসরে বিজয় মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়নি। বিজয় মেলার লোকাল ব্রডকাস্টিং পার্টনার হিসেবে ছিল ‘নোটিসিয়াস বাংলা’।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল