আল-আজহার আল-শরীফের গ্র্যান্ড ইমাম অধ্যাপক ড. আহমেদ আল-তায়িবের ৮০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আল-আজহার একটি বিশেষ ডিজিটাল কর্মসূচি পালন করেছে। “ثمانون عامًا من الحكمة” বা “আশি বছরের প্রজ্ঞা” শিরোনামে এই আয়োজনের লক্ষ্য হলো নতুন প্রজন্মকে দেখানো, যে আন্তরিক অবদান শুধু সময়ের মধ্যে নয়, বরং তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব দ্বারা মূল্যায়ন করা হয়।
আল-আজহারের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শুরু হওয়া এই প্রচারণায় গ্র্যান্ড ইমামের জীবনের আট দশককে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে তিনি প্রজ্ঞা, মধ্যপন্থা এবং মানবিক সহনশীলতার এক অবিচল প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
ডিজিটাল আয়োজনের মাধ্যমে গ্র্যান্ড ইমামের ব্যক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক জীবনের নির্বাচিত মুহূর্তগুলো প্রদর্শন করা হচ্ছে। এতে দেখা যাচ্ছে, তিনি তাঁর জীবন প্রায় ৮০ বছর জ্ঞানচর্চা, জনকল্যাণ এবং ইসলামের সহনশীল বার্তা প্রচারে নিয়োজিত ছিলেন। ভ্যাটিকান থেকে ওয়াশিংটন, মস্কো থেকে বেইজিং; বিশ্বের প্রধান রাজধানীতে তাঁর কণ্ঠস্বর শান্তি ও সহাবস্থানের পক্ষে সমাদৃত।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও ড. আল-তায়িবের অবদান উল্লেখযোগ্য। তিনি গত বছর প্রায় ১২০ জন বাংলাদেশি ছাত্রকে কায়রোতে স্কলারশিপের ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে তিনি স্কলারশিপ বাড়ানোর প্রক্রিয়া তদারকি করেছেন। শাইখুল আজহারের সেক্রেটারি ড. আহমেদ বারাকাত জানান, নির্বাচনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ড. আল-তায়িব বাংলাদেশ সফর করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।
ড. আল-তায়িব বাংলাদেশে দুইটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দিয়েছেন। চট্টগ্রামে সুফি মিজান পরিচালিত রবে তাতুল আলামিয়া আল খিরিজিল আজহার শাখা এবং রাজশাহীতে মাহাদুল আজহার ইনস্টিটিউট, যা সরাসরি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। রাজশাহীতে প্রতিষ্ঠানটির কাজ চলমান রয়েছে এবং শীঘ্রই এটি চালু হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন ডক্টর বেলাল হোসেন। এছাড়াও রাজধানীর উত্তরা এলাকায় দারুল আরকাম ইনস্টিটিউটও আল-আজহারী তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করলে শিক্ষার্থীরা সরাসরি আল-আজহারে অনার্সে ভর্তি হতে পারবে।
আল-আজহার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই উদযাপন কেবল জন্মদিন নয়, বরং গ্র্যান্ড ইমামের দীর্ঘ কর্মময় জীবনের দলিল তৈরির প্রচেষ্টা। সহনশীলতা, মধ্যপন্থা এবং জাতির সেবায় তাঁর অবদান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে অনুপ্রেরণা যোগাবে।
বিডি প্রতিদিন/মুসা