বাংলাদেশের গণতন্ত্রায়নে আপোষহীন নেত্রী ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরতে অস্ট্রেলিয়ায় এক আলোচনা সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জিয়া পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সিডনির গ্রামীন ফাংশন সেন্টারে এ সেমিনার ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জিয়া পরিষদ অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি মো. কামরুজ্জামান মোল্লা ঝিন্টু এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ খাইরুল কবির পিন্টু।
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ও বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন হাওলাদার আরিফ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী স্বপন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল হাছান, সিনিয়র সহ-সভাপতি একেএম ফজলুল হক শফিক, ডা. আব্দুল ওহাব বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক এএনএম মাসুম, ইউনুস সেন্টারের প্রমিথিউস সিদ্দিকী, নিউ সাউথ ওয়েলস বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ ইরফান খান, সহ-কোষাধ্যক্ষ তানবীর আহম্মেদ খান এবং প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রাহান হাসনাত।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও দোয়া পরিচালনা করেন বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কুদ্দুসুর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন যুবদল অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাকির হোসেন রাজু, বিএনপি অস্ট্রেলিয়ার প্রচার সম্পাদক লিন্টাস পেরেরা, নিউ সাউথ ওয়েলস বিএনপির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ বাবুল খন্দকার, মোহাম্মদ শাহিদুল্লাহ, মোহাম্মদ রাশেদ খান, তোফাজ্জল হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার আজম মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ শাহেদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও পুনরুদ্ধারে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান সুদূরপ্রসারী ও অনস্বীকার্য। ১৯৮০-এর দশকে স্বৈরাচারী শাসক জেনারেল এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে আপোষহীন আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন। ১৯৮৩ সালে ৭-দলীয় জোট গঠন করে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং বারবার গৃহবন্দী হওয়া সত্ত্বেও স্বৈরাচারের সঙ্গে কোনো আপোষ করেননি। এ কারণেই তিনি ‘আপোষহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, ১৯৯১ সালের গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। একই বছরের ৬ আগস্ট সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনর্বহাল করা হয়, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।
১৯৯৬ সালে রাজনৈতিক সংকট নিরসন ও অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে তাঁর সরকার সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে এবং ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দেন বলে বক্তারা উল্লেখ করেন। নারী ক্ষমতায়ন ও শিক্ষা সংস্কার প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে নারী শিক্ষা বিস্তারে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা, শিক্ষা বৃত্তি চালু এবং প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে তৃণমূল পর্যায়ে সুদৃঢ় করার পথ তৈরি হয়।
বক্তারা আরও জানান, গণতন্ত্র রক্ষায় তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেট সিনেট তাঁকে ‘ফাইটার ফর ডেমোক্রেসি’ সম্মাননায় ভূষিত করে। আলোচনা সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, রাজনৈতিক জীবনের শেষ পর্যায়েও বেগম খালেদা জিয়া মানুষের ভোটাধিকার ও বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে অবিচল ছিলেন। তাঁর নেতৃত্ব, ত্যাগ ও সাহসিকতা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ