শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৫২

পাঁচ গ্রামের মাঠে বিষমুক্ত সবজি

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

পাঁচ গ্রামের মাঠে বিষমুক্ত সবজি

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের পাঁচ গ্রামের মাঠে উৎপাদিত হবে ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন বিষমুক্ত সবজি। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের একমাত্র ইউনিয়ন হিসেবে এখানে বিষমুক্ত সবজি চাষ করা হয়েছে। দেশের এরকম ১০টি ইউনিয়নে বিষমুক্ত সবজির চাষ করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সারোয়ার জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের টামটা, বিটমান, বাশরা, ভিকতলা, নয়াকান্দি গ্রামের মাঠে সবজি চাষিরা পোকামাকড় দমনে এসব নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

কৃষি অফিসের সূত্রমতে, অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ও বালাইনাশক ব্যবহারে তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। দূষিত হচ্ছে মাটি, পানি ও বাতাস। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। এসব সমস্যা থেকে কৃষক ও পরিবেশকে বাঁচাতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আইপিএম (সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা) প্রকল্পের আওতায় মডেল প্রকল্প হিসেবে বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি চাষ করছে। প্রকল্পের অধীন দেশের ১০টি উপজেলায় আইপিএম মডেল ইউনিয়ন গঠন করা হয়। প্রতিটি আইপিএম মডেল ইউনিয়নের ২৫টি দল রয়েছে। এতে আটজন নারীসহ ২০ সদস্য। কিষাণ-কিষাণির সমন্বয়ে মোট ৫০০ জনের দল গঠন করা হয়েছে। ১০০ একর জমিতে তারা জৈব কৃষি ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে সবজি উৎপাদন করছেন। সবজির মধ্যে রয়েছে টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মিষ্টি কুমড়া, খিরা, লাউ ও স্কোয়াস ইত্যাদি।

মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে দাউদকান্দি উপজলার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়ন। মাঠজুড়ে নানা ফসলের হাসি। জমিতে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা। জমিতে লাগানো হয়েছে সেক্স ফেরোমোন ফাঁদ, হলুদ আঠালো ফাঁদ ও নেট হাউস। এসব সবজি খেতে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে পরিবেশবান্ধব ভার্মি কম্পোস্ট। ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনের জন্য রাসায়নিক কীটনাশকের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে জৈব বালাইনাশক। সবজির ভাইরাসবাহিত রোগ দমনে এখানে ১০টি নেট হাউস স্থাপন করা হয়েছে।

টামটা গ্রামের কৃষক মো. ইসমাইল বলেন, ‘ছয় বিঘা জমিতে বিষমুক্ত টমেটো চাষ করেছি। সরকার এ জন্য সব ধরনের কৃষি উপকরণ সরবরাহ করেছে। নিরাপদ সবজি বিক্রির পৃথক বাজার স্থাপন করলে কৃষক উপকৃত হবে।’

উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সৈয়দ জামান বলেন, কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সেক্স ফেরোমোন ফাঁদ, জৈব বালাইনাশক ও নগদ অর্থ দিচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। এসব ব্যবহার পদ্ধতির ওপর কিষান-কিষানিদের সাতবার হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলার কেন্দ্রীয় আইপিএম ক্লাবের সভাপতি কৃষি সংগঠক মতিন সৈকত বলেন, আমরা বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে ২০ বছর আগে থেকে আন্দোলন শুরু করেছি। উপজেলায় আইপিএমের ১৬০টি সংগঠন রয়েছে। দক্ষিণ ইলিয়টগঞ্জ ইউনিয়নের নিরাপদ সবজি উৎপাদন সফল হবে বলে আমরা আশা করি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সারোয়ার জামান বলেন, পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্প তথা আইপিএম কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় করতে সরকার এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে। দেশের ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নকে বাছাই করা হয়েছে। আইপিএম পদ্ধতিতে সবজি চাষে মডেল ইউনিয়ন হিসেবে ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নকে গড়ে তোলা হবে। তিনি আরও বলেন, নিরাপদ সবজি বিক্রির পৃথক বাজার স্থাপন নিয়ে কৃষকরা দাবি জানিয়েছেন। ভালো মূল্য না পেলে তারা এই পদ্ধতিতে আগ্রহী হবে না। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব। তাছাড়া আমরা স্থানীয়ভাবে মহাসড়কের পাশে শেড করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছি।


আপনার মন্তব্য