শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ৭ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ আগস্ট, ২০২১ ২৩:২১

৩০০ বছরের নান্দনিক ঐতিহ্য নওগাঁর ভাঙা মসজিদ

বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ

৩০০ বছরের নান্দনিক ঐতিহ্য নওগাঁর ভাঙা মসজিদ
Google News

প্রাচীন ঐতিহ্যের ছাপ মসজিদটির পরতে পরতে। নান্দনিক নকশা ও সুনিপুণ নির্মাণকাজ জানান দেয় মুসলিম ইতিহাসের নান্দনিকতার কথা। এত সুন্দর ও সুদর্শন একটি মসজিদ এবং শৈল্পিক অবকাঠামো রয়েছে তা অনেকে জানেনও না। এটি নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামে অবস্থিত ধর্মপুর ভাঙা মসজিদ। স্থাপত্যকলা, শিল্প-সৌন্দর্যের আধার ধর্মপুরে ভাঙা মসজিদটি ঠিক কত বছর আগে তৈরি করা হয়েছিল এর সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রবীণ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোনো একসময় প্রাচীন মসজিদটির আশপাশে মুসলিম জনবসতি ছিল এবং মসজিদের পাশে বিশাল পুকুর থাকায় এখানে প্রাচীন মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। আবার কী কারণে তারা মসজিটির আশপাশ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য আজও কেউ বলতে পারেননি। এর গঠন পদ্ধতি ও স্থাপত্য কৌশল শিল্পসমৃদ্ধ ও অনন্য। ৯ গম্বুজ বিশিষ্ট বর্গাকৃতির মসজিদটির ভিতর রয়েছে চারটি সুদৃঢ় খিলান। দরজা রয়েছে মাত্র ১টি। দ্বিতল ভবনের ভিতরে মেহরাব ও দেয়ালে অঙ্কিত রয়েছে বিভিন্ন কারুকাজের ফুলদানি ও ফুল। মসজিদের দেয়ালের গাঁথুনি ৪ ফুট প্রস্থ, যা চুন ও সুরকি দিয়ে গাঁথা। প্রাচীন স্থাপত্যকলার সুদৃশ্য মসজিদটি চিকন ইট, চুনচুরকির নির্মিত দেয়ালে এখনো নকশা করা কারুকাজ রয়েছে। চারটি পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে ৯ গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদের নির্মাণশৈলী মনোমুগ্ধকর। এর আয়তনের সঠিক তথ্য জানা যায়নি। মসজিদটি সিঁড়িসহ প্রবেশপথ, খোলা চত্বর ও মূল ভবন বা নামাজঘর তিনটি অংশে বিভক্ত। বিভিন্ন তথ্য মিলিয়ে মসজিদটির সম্ভাব্য বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০ থেকে ৩৫০ বছর। মসজিদের মুসল্লি আনিছুর রহমান (৮০) বলেন, ‘আমার নিজের চোখে দেখা মসজিদটি ২০ বছর আগেও অনেক সুন্দর ছিল। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসতেন প্রাচীন এই মসজিদটি দেখতে। এখানে শুধু দুই ঈদের নামাজ হতো। শেষ ঈদের জামাত ২০০০ সালে অনুষ্ঠিত হয়। বাপ-দাদার মুখ থেকে শুনেছি ১৯২০ সালে মহাভূমিকম্পে ৯টি গম্বুজসহ মসজিদটির কিছু অংশ ভেঙে যায়। তারপর থেকেই ভাঙা মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে। স্থানীয় বাসিন্দা তায়েজ উদ্দিন বলেন, এই প্রাচীন মসজিদটি আমার ধারণা মতে ৩০০ বছরের পুরনো হবে। গত বছর সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের কিছু লোক এসে গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেছিল। পরে তাদের আর খোঁজ মেলেনি। বগুড়া প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা বলেন, আমরা মসজিদ এলাকা ঘুরে দেখেছি। প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এটি সংরক্ষণযোগ্য। স্থানীয় লোকজন এবং মুসল্লিরাও এটি সংরক্ষণের পক্ষে মত দিয়েছেন। মসজিদটিকে প্রত্নতাত্তি¡ক নিদর্শন হিসেবে ঘোষণা করে এর সংরক্ষণের বিষয়টি বিবেচনা করার ব্যাপারে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। নওগাঁর জেলা প্রশাসক হারুন-অর-রশীদ বলেন, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ মসজিদটি সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে। মসজিদটি নওগাঁর এবং আমাদের দেশের একটি ঐতিহ্য। এটিকে রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।