শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২২:০১

দিনেও বেপরোয়া ট্রাক-বাস

কাজী শাহেদ, রাজশাহী

দিনেও বেপরোয়া ট্রাক-বাস

শহরে যানজট নিরসন ও দুর্ঘটনা এড়াতে দিনের বেলা ট্রাক-বাস প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে তা মানা হচ্ছে না। শহরের অদূরে নওদাপাড়ায় আলাদা ট্রাক ও বাস টার্মিনাল গড়ে তোলা হলেও শহর ছাড়ছে না ট্রাক-বাস। নিয়ম ভেঙে রাজশাহী নগরীর ভিতরে দিনের বেলায় অহরহ ঢুকছে ট্রাক-বাস। এগুলো এতই বেপরোয়াভাবে ব্যস্ত শহরে চলাচল করে যে, যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এরই মধ্যে শহরের মধ্যে কয়েকটি দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যুও হয়েছে।

প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে দিনের বেলা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেও থামানো যাচ্ছে না ট্রাক-বাসের চলাচল। দিনের বেলা শহরের সড়কে ট্রাক-বাস চলাচলে তীব্র যানজট ও মৃত্যুঝুঁকি এড়াতে নগরীর নওদাপাড়ায় গড়ে তোলা হয় আলাদা ট্রাক ও বাস টার্মিনাল। সেই সঙ্গে নগরীর পাশ দিয়ে তৈরি করা হয় বাইপাস (কাশিয়াডাঙ্গা-বেলপুকুর) সড়ক। অথচ ওই সড়কের চেয়ে ট্রাক ও বাসের চালকরা শহরের মধ্য দিয়েই চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাক-বাস। বিশেষ করে নগরীতে বালুবাহী ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়। আর এখনো বিভিন্ন রুটের বাস চলাচল করে নগরীর মধ্য দিয়েই। নওদাপাড়ায় বিশাল পরিসরে বাস টার্মিনাল নির্মাণ হলেও এখন নতুন করে ভদ্রা এলাকায় গড়ে উঠেছে অলিখিত বাসস্ট্যান্ড। রেললাইন ও স্মৃতি অম্লান ঘিরে এখন বেপরোয়া বাসের চলাচল ওই এলাকায় চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে বাস ও বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় নগরীতে ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই আছে। দিনের বেলায় ব্যস্ত নগরীতে ট্রাক-বাসের অবাধ চলাচলে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া গরু-ছাগল ও মালামাল নিয়ে শহরে নসিমন-করিমন-ভটভটি ঢোকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এসব যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। নগরীর ব্যস্ততম এলাকা সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট। এখানে সারা দিন যানজট লেগে থাকে। বিশেষ করে আরডিএ মার্কেটের সামনে যানজটের কারণে মানুষকে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয়। জিরো পয়েন্টের দুই পাশ যেন হিউম্যান হলারের অলিখিত স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে পুলিশের সহায়তায়। নগরীর ভিতরে দিনের বেলায় ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ হলেও ট্রাকচালকরা তা মোটেই আমলে নেন না।

রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, দিনের বেলা ব্যস্ত শহরে ট্রাক-বাস প্রবেশের কারণে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। ট্রাফিক পুলিশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেদার শহরে দিনের বেলা অবাধে চলাচল করে ট্রাক-বাস। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার কারণ শহরের বালুবাহী ট্রাক। পদ্মা নদী থেকে অবাধে বালু তুলে সারিবদ্ধভাবে বেপরোয়া এসব ট্রাক চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে শহরে।

নগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, বাস ও ট্রাক মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে দিনের বেলা শহরে ট্রাক-বাস চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও কিছু কিছু ব্যবসায়ী সড়কের পাশের দোকানে মালামাল নিয়ে এসে লোড-আনলোড করে। তবে ট্রাফিক বিভাগ সজাগ আছে। প্রতিনিয়ত মামলাও দেওয়া হচ্ছে। মূল শহরে ট্রাক-বাস প্রবেশের খবর পেলেই পুলিশ সেগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছে।


আপনার মন্তব্য