শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ অক্টোবর, ২০২০ ২১:৫৯

জ্ঞানের দ্যুতি ছড়াবে চসিক লাইব্রেরি

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

জ্ঞানের দ্যুতি ছড়াবে চসিক লাইব্রেরি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে সাততলা বিশিষ্ট পাবলিক লাইব্রেরি। এ লাইব্রেরিতে নতুন-পুরনো মিলে থাকবে প্রায় অর্ধ লাখ বই। লাইব্রেরিটি প্রতিদিন খোলা থাকবে সর্ব সাধারণের জন্য। জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, লেখক ও বইপ্রেমীরা। এর মাধ্যমে জ্ঞানের দ্যুতি ছড়াবে চসিক পাবলিক লাইব্রেরিটি।

এটির নির্মাণ কাজ শেষ। এখন চলছে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। আগামী ডিসেম্বরে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করার কথা রয়েছে। 

১৯০৪ সালে চট্টগ্রাম পৌরসভার প্রথম ভবনে ‘চিটাগাং মিউনিসিপ্যাল লাইব্রেরি’ নামে পাবলিক গড়ে ওঠে।

১৯২১-২২ সালে নূর আহমদ চেয়ারম্যান থাকাকালে লাইব্রেরিটি পূর্ণতা পায়। ১৯২৩ সালে পৌরসভার লালদিঘীর পাড়ে পাবলিক লাইব্রেরিটি স্থানান্তরিত হয়।

চসিক সূত্রে জানা যায়, নগরের লালদীঘি মসজিদের দক্ষিণ পার্শ্বে ‘কেন্দ্রীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ দফতর, লাইব্রেরি ও কমিউনিটি সেন্টার কাম সাইক্লোন শেল্টার’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে ১৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চসিক আধুনিক এ লাইব্রেরিটি নির্মাণ করে। এ লাইব্রেরিতে ছিল প্রায় ৪৫ হাজারের মতো বই। এর মধ্যে ছিল কয়েকশ’ বছরের পুরনো ইংরেজি সাহিত্য, কলকাতা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন গেজেট, মূল্যবান পত্রিকা ও সাহিত্য সাময়িকী। কিন্তু ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর লাইব্রেরিটি ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ওই সময় বইগুলো বিবিরহাট সিটি করপোরেশন আরবান হেলথ কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলায় স্থানান্তরিত করা হয়।

চসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরহাদুল আলম বলেন, ‘ভবনের মূল কাজ শেষ। এখন বিদ্যুৎ সংযোগ ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজ চলছে। এসব কাজ শেষ করে আগামী ডিসেম্বরে লাইব্রেরিটি চালুর পরিকল্পনা আছে।

এটি চালু হলে বইপ্রেমীরা এখানে জ্ঞানার্জন করতে পারবেন।’

সাততলা বিশিষ্ট চসিক পাবলিক লাইব্রেরি ভবনের প্রথম তলায় থাকবে ১৬০ আসন বিশিষ্ট কমিউনিটি সেন্টার, দ্বিতীয় তলায় থাকবে কেন্দ্রীয় দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণ অফিস, তৃতীয় তলায় থাকবে শিক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, চতুর্থ তলায় থাকবে চসিক পাবলিক লাইব্রেরি ও কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার, পঞ্চম তলায় থাকবে ফুটবল ও অন্যান্য ক্লাব, ষষ্ঠতলায় জিমনেশিয়াম ও সপ্তম তলায় দুটি ভিআইপি গেস্ট রুম। 

অভিযোগ উঠেছে, লাইব্রেরি সায়েন্সে বই বস্তাবন্দি করে রাখার নিয়ম না থাকলেও পুরনো বইগুলো চসিক আরবান হেলথ কমপ্লেক্স ভবনের তৃৃতীয় তলায় বস্তা ভরেই রাখা হয়েছে।

ফলে ইতিমধ্যে অনেক বই নষ্ট, বাইন্ডিং খুলে যাওয়াসহ নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে। তা ছাড়া অনেক পুরনো কাগজে প্রিন্ট হওয়ায় বইগুলোর মান তেমন ভালো নয়। তাই এগুলোর প্রয়োজনীয় যত্ন করা না হলে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বেশি। এসব বই আর দ্বিতীয়টি পাওয়ার সুযোগ নেই। তাই বইগুলোর যতœ নেওয়া খুবই জরুরি বলে মনে করেন বইপ্রেমীরা।


আপনার মন্তব্য