চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের রাহাত্তারপুল এলাকার দক্ষিণ পাশ। এখানে সড়কের ফুটপাতেই এবড়োখেবড়ো করে রাখা হয়েছে ডাস্টবিন। এখান থেকে কখনো বর্জ্য উপচে পড়ে সড়ক-ফুটপাতে, কখনো বাঁকা করে রাখা ডাস্টবিন পথচারী-যানবাহনের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এভাবে কেবল রাহাত্তারপুল এলাকায় নয়, নগরের অসংখ্য এলাকার ডাস্টবিন সড়ক ও ফুটপাতে এলোমেলো রাখা হয়েছে। এগুলোর জন্য পথচারীর যেমন সমস্যা হয়, তেমনি সড়কের বড় একটি অংশ ডাস্টবিন দখল করে থাকায় যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটায়।
সরেজমিন দেখা যায়, নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে ফুটপাত বাদ দিয়ে দুটি ডাস্টবিন রাখা হয়েছে মূল সড়কেই। এখান থেকে বর্জ্য কখনো কখনো সড়কে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। নগরের বাদুরতলা এলাকার মূল সড়কেই রাখা হয়েছে ডাস্টবিন। ডাস্টবিনের আশপাশে ছড়িয়ে থাকে বর্জ্য। এসব বর্জ্যরে দুর্গন্ধে ফুটপাত দিয়ে হাঁটাও দায়। হাঁটতে হয় নাক চেপে ধরে। কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকার প্রবেশপথের মূল সড়কেই আছে ডাস্টবিন।
বাদুরতলা এলাকার বাসিন্দা আফরোজা মিলি বলেন, আমরা এই নগরকে গ্রিন, ক্লিন ও পরিচ্ছন্ন নগর বলছি। অথচ বাদুরতলার মতো একটি জনবহুল এলাকার সড়কের ওপর এভাবে আঁকাবাঁকা করে ডাস্টবিন রাখা হয়েছে। পথচারী ও যানবাহন- দুটোর জন্যই এটি সমস্যা। এটি কোনো সভ্য নগরের চরিত্র হতে পারে? কে দেখবে বিষয়গুলো।
চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইফতেখার উদ্দিন আহমদ চৌধুরী বলেন, এভাবে তো থাকার কথা নয়। আমরা এর আগেও এলোমেলো ডাস্টবিনগুলো সোজা করে রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলাম। আমি আবারও খবর নিয়ে বিষয়টি দেখছি। নাগরিকদের সমস্যা হয় এমন করে কোনো ডাস্টবিন রাখা হবে না।
চসিকের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি নগরে থেকে খোলা ডাস্টবিন অপসারণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এর আগ পর্যন্ত নগরীর মোট ১ হাজার ৩৫০টি খোলা ডাস্টবিন ও ৯৬টি কনটেইনার ডাস্টবিন ছিল। তখন চসিক ‘ডোর টু ডোর’ পদ্ধতিতে প্রতিটি ঘর থেকে বর্জ্য সংগ্রহের ঘোষণা দেয়। এ লক্ষ্যে চসিক নগরের বাসা, দোকান, হাট-বাজার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ ৪১টি ওয়ার্ডে প্রায়৯ লাখ বিন সরবরাহ করে। এরপর নগরের অনেক জায়গায় এখনো সড়ক-ফুটপাতে খোলা ডাস্টবিন দেখা যায়। নগরে দৈনিক প্রায় তিন হাজার টন বর্জ্য উৎপাদন হয়। এর মধ্যে চসিক প্রায় আড়াই হাজার টন বর্জ্য সংগ্রহ করে নগরের হালিশহর ল্যান্ডফিল এবং আতুরার ডিপো আরেফিন নগরের ল্যান্ডফিলে ফেলা হয়। বাকি বর্জ্য নালা-নর্দমা, খাল-বিল, নদী ও উন্মুক্ত স্থানে পড়ে থাকে। কিছু বর্জ্য নানাভাবে চলে যায় কর্ণফুলী নদীতে।