বিশ্বকাপের মঞ্চে জার্মানির ভরাডুবির গল্পটা যেন থামছেই না। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল দলটি টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বমঞ্চের নকআউট পর্ব থেকে ছিটকে গেল চরম লজ্জায়। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে জুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল।
গ্রুপ পর্বে কোনোমতে সেরা তৃতীয় দলগুলোর একটি হয়ে নকআউটে আসা প্যারাগুয়ের বিপক্ষে এই হার কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচ শেষে ফুটবলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জার্মান অধিনায়ক জশুয়া কিমিচ।
অতিরিক্ত সময়ে জার্মানির ডিফেন্ডার জোনাথন তাহের একটি হেড থেকে হওয়া গোল ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) বাতিল করলে ম্যাচজুড়ে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অনেকেই রেফারি ও ভাগ্যের ওপর দায় চাপালেও অধিনায়ক কিমিচ কোনো অজুহাত দিতে রাজি হননি। মিক্সড জোনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি সরাসরি দলের মানের দিকে আঙুল তোলেন। কিমিচ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, প্যারাগুয়ের মতো প্রতিপক্ষকে হারানোর মতো ন্যূনতম যোগ্যতা বা আকাঙ্ক্ষা তাদের দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল না। ১২০ মিনিটের মধ্যে ম্যাচ শেষ করতে না পারার দায় পুরোপুরি ফুটবলারদেরই নিতে হবে, এখানে রেফারি বা টাইব্রেকারের ভাগ্যকে দোষ দিয়ে লাভ নেই।
কোচ নাগেলসম্যানের পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কিমিচ জানান, তিনি কোচের বিদায় চান না। মাঠের ব্যর্থতার জন্য তিনি ফুটবলারদেরই দায়ী করেন। শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করে জার্মান অধিনায়ক আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, তারা যখন ছোট ছিলেন, তখন জার্মানি মানেই ছিল সেমিফাইনাল, ফাইনাল কিংবা বিশ্বজয়। কিন্তু গত আট বছর ধরে টানা ব্যর্থতায় দেশের মানুষের মনে সেই আবেগ বা উদ্দীপনা তারা তৈরি করতে পারছেন না।
দলের অধিনায়ক হিসেবে এই লজ্জাজনক বিদায়ের দায় নিজের কাঁধেই নিয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই মিডফিল্ডার। কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার দিনটিকে নিজের ক্যারিয়ারের ‘সবচেয়ে কঠিন দিন’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন কিমিচ। এবার প্যারাগুয়ের কাছে হারকে ‘ভয়াবহ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অধিনায়ক হিসেবে এই হারের গ্লানি আরও বেশি। অন্য কারও ওপর দোষ না চাপিয়ে, নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে নতুনভাবে পথ খোঁজার বিকল্প দেখছেন না এই জার্মান তারকা।
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি