গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ার পাশাপাশি এবার নতুন একটি প্রদেশেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা, স্থানীয়দের অবিশ্বাস এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০৭ জনের শরীরে ইবোলা সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৭৭ জন।
সোমবার (২৯ জুন) রাতে প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে কঙ্গোর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, ইতুরি, উত্তর কিভু ও দক্ষিণ কিভু প্রদেশে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ভাইরাসটি এখন চতুর্থ প্রদেশ ওত-উয়েলেতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
কঙ্গো ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োমেডিকেল রিসার্চের (আইএনআরবি) সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, ইতুরির রাজধানী বুনিয়া থেকে এক সংক্রমিত ব্যক্তি ওত-উয়েলে ভ্রমণ করার পর সেখানে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয়। পরে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে সংক্রমণের উৎস শনাক্ত এবং তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।
ওত-উয়েলে প্রদেশের সঙ্গে দক্ষিণ সুদান ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সীমান্ত থাকায় সংক্রমণ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পুরো উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় দেড় কোটি মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, গত মে মাস থেকে সংঘাতকবলিত ইতুরি প্রদেশে নতুন করে ইবোলার প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। বিশেষ করে ঐতিহ্যগত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় মৃতদেহ স্পর্শ করার কারণে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় জনগণের অবিশ্বাস। নিরাপদ দাফনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা বারবার বাধার মুখে পড়ছেন। অনেক পরিবার এখনো প্রচলিত নিয়মে মৃতদেহ স্পর্শ করে শেষ বিদায় জানাচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ইতুরির রুয়ামপারা এলাকার একটি চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক ক্যাথরিন ওয়ামবুয়া-সোই জানান, স্বাস্থ্যকর্মীরা পর্যাপ্ত সুরক্ষাসামগ্রী, ওষুধ, দ্রুত শনাক্তকরণ কিট এবং মরদেহ সংরক্ষণের ব্যাগের অভাবে কাজ করছেন। এছাড়া কয়েকটি চিকিৎসাকেন্দ্র হামলারও শিকার হয়েছে। গত মাসে একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি একটি চিকিৎসা শিবিরের তাঁবুতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাজধানী কিনশাসাসহ চারটি প্রদেশে জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কঙ্গো সরকার। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের আশা, এই পদক্ষেপ ভাইরাসের বিস্তার কমাতে সহায়ক হবে।
তথ্য সূত্র- আলজাজিরা।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ