Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ মার্চ, ২০১৭ ২৩:০২
আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন
নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন

আজ ১৭ মার্চ, যার জন্ম না হলে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হতো না, আজ তার জন্মদিন। তিনি বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতির মুক্তিদূত।

তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। ১৯২০ সালের এ দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ লুত্ফর রহমান ও সায়রা খাতুন দম্পতির পুত্র সন্তান শেখ মুজিবুর রহমান। বাবা মায়ের আদরের ‘খোকা’ (ডাক নাম) নিজের অসীম সাহস, প্রজ্ঞা, দূরদর্শী নেতৃত্ব, সুদীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম আর ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমে পরিণত হয়েছিলেন বাঙালির ইতিহাসের রাখাল রাজা। জাতির পিতার জন্মদিনটি প্রতি বছরের মতো আজ জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে। আজ সরকারি ছুটি। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতির পিতার ৯৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ এবং সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে দেশের প্রকৃত ইতিহাস এবং জাতির পিতার সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানান। ব্রিটিশ রাজের শাসনামলে গ্রামের গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের লেখাপড়ার হাতেখড়ি। কিশোর বয়সেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে তৎকালীন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগদানের কারণে প্রথমবারের মতো গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন। গোপালগঞ্জ মিশন স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর তিনি কলকাতার ইসলামীয়া কলেজে (বর্তমান নাম মাওলানা আজাদ কলেজ) ভর্তি হন। পাকিস্তান ও ভারত নামে ভারতবর্ষ পৃথক হয়ে যাওয়ার পর শেখ মুজিব দেশে ফিরে আসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠা করেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ যার মাধ্যমে তিনি অন্যতম প্রধান ছাত্রনেতায় পরিণত হন। বঙ্গবন্ধু ১৯৪৯ সালে তৎকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগের পূর্ব পাকিস্তান শাখার যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৩ সালে তিনি পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের টিকেটে ইস্ট বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হন। বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আজীবন সোচ্চার এই অবিসংবাদিত নেতাকে বহুবার কারাবরণ করতে হয়। তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা ও পরবর্তীতে ১১ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এবং বঙ্গবন্ধু উপাধি লাভ করেন। তার সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ধাপে ধাপে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে থাকে। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জিত হলেও তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে বাঙালি জাতির ওপর নানা নির্যাতন শুরু করে। বঙ্গবন্ধু একাত্তরের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন। ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু করলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং তার নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। বঙ্গবন্ধুকে সেই রাতে গ্রেফতার করে পাকিস্তানে নিয়ে গিয়ে সামরিক আদালতে বিচার করা হয়। এদিকে তারই নির্দেশিত পথ ও নেতৃত্বে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্যে সূচিত বাঙালির বিজয়। বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।   বিংশ শতাব্দীতে নির্যাতিত, নিপীড়িত ও শোষিত মানুষের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে যারা বিশ্বনন্দিত নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের অন্যতম। সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিরামহীন সংগ্রামে অবদান রাখার জন্য তিনি বিশ্ব শান্তি পরিষদের জুলিও কুরি পদকে ভূষিত হন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধানমন্ডির বাসভবনে কতিপয় বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ শাহাদাতবরণ করেন। বঙ্গবন্ধু মুজিবের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম আর ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ আজ কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে তার স্থপতিকে। এ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়াতেও প্রতিবারের মতো বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সকাল ১০টায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের মাজারে জাতির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করবেন। এ সময় গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে । এর আগে সকাল ৭টায় প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। জন্মদিন উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়া ও রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন। আগামীকাল শনিবার বিকাল ৩টায় রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। এতে সভাপতিত্ব করবেন সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow