শিশু-কিশোরীদের সুস্থ ও সচেতন ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে হাইজিন ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক একটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২ জানুয়ারি) সকালে তাড়াশ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্যবিধি এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতন করা হয়।
তাড়াশ উপজেলা বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি মো. শামীউল হক শামীমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফর রহমানের তত্ত্বাবধানে কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়। এতে সংগঠনের সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচির শুরুতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, ছোটবেলা থেকেই পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ থেকে সহজেই সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। পরে হাতে-কলমে দেখানো হয় কীভাবে সঠিক নিয়মে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হয়—বিশেষ করে খাবার খাওয়ার আগে, টয়লেট ব্যবহারের পরে এবং বাইরে থেকে এসে।
বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় বয়ঃসন্ধিকালীন পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধির ওপর। কিশোরীদের শারীরিক পরিবর্তনের সময় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, পরিষ্কার কাপড় ব্যবহার, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি উপকরণ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এবং স্বাস্থ্যগত সমস্যায় লজ্জা না পেয়ে বড়দের সঙ্গে আলোচনা করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
এছাড়াও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যকর খাবারের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। আলোচকবৃন্দ তাদের বক্তব্যে জানান, ভিটামিন, প্রোটিন ও আয়রনসমৃদ্ধ খাবার যেমন শাকসবজি, ডাল, ডিম, দুধ ও ফলমূল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অপুষ্টি ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের সতর্ক করা হয়। রাস্তাঘাটে খোলা পরিবেশে তৈরি ঝালমুড়ি, ফুচকা ও আচারের মতো অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সভাপতি মো. শামীউল হক শামীম বলেন, পরিচ্ছন্নতার মাঝেই সুস্থতা। সচেতন মানুষই পারে নিজের পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজকে পরিচ্ছন্ন রাখতে। আমরা সবাই মিলে সচেতন হলেই কেবল সুস্থ সুন্দর জাতি গড়ে উঠবে।
সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফর রহমান বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ সবসময় সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তরুণ প্রজন্মকে স্বাস্থ্য সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সহ-সভাপতি ও সাংবাদিক মৃণাল সরকার মিলু, শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম ও উত্তম কুমার, সাংবাদিক সাব্বির মির্জা, অঙ্কন সরকার এবং উপদেষ্টা ও কালেরকণ্ঠের সাংবাদিক সনাতন দাশসহ অন্যান্যরা।
শেষে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত হাত ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়। বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও এ ধরনের স্বাস্থ্য ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
বিডি-প্রতিদিন/মাইনুল