সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, পুরস্কার বিতরণ ও খাবার বিতরণের আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ, গাজীপুর জেলা শাখা। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পূর্ব চান্দনা আবুর বস্তি এলাকায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজন শিশুদের জন্য হয়ে ওঠে এক ভিন্নধর্মী ও স্মরণীয় দিন।
ভালোবাসা দিবসের মূল বার্তা মানবিকতা, সহমর্মিতা ও একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। খেলাধুলা ও ভালোবাসার পরিবেশে দিনটি উদযাপনের সুযোগ পায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা।
অনুষ্ঠানে প্রায় অর্ধশতাধিক শিশু অংশগ্রহণ করে। শিশুদের নিয়ে আয়োজন করা হয় নানা ধরনের আনন্দঘন ও ঐতিহ্যবাহী খেলা। এর মধ্যে ছিল মোরগ লড়াই , কানামাছি, জলেডাঙ্গা, চাচা আপন প্রাণ বাঁচা, বালিশ খেলাসহ আরও বিভিন্ন জনপ্রিয় গ্রামীণ খেলা। খেলাধুলার পুরো সময়জুড়ে শিশুদের হাসি, উচ্ছ্বাস ও আনন্দে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। খেলাধুলা শেষে শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়, যা তাদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
খেলায় অংশ নিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করে শিশু আহাদ বলে, “আজকে অনেক খেলেছি, অনেক মজা করেছি। সবাই একসাথে ছিলাম। পুরস্কার পেয়ে খুব খুশি হয়েছি।”
আরেক শিশু সাব্বির জানায়, “আমরা আগে এমনভাবে সবাই মিলে খেলতে পারিনি। আজকের দিনটা আমার খুব ভালো লেগেছে।”
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ গাজীপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. ইমরান হোসেন বলেন, “ভালোবাসা মানেই শুধু ফুল আর উপহার নয়। প্রকৃত ভালোবাসা হলো সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের মুখে হাসি ফোটানো। আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা শিশুদের সঙ্গে সেই ভালোবাসার আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।”
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ বলেন, “শিশুদের মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। সুবিধাবঞ্চিত শিশুরাও যেন আনন্দময় শৈশবের স্বাদ পায়, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন। তাদের সঙ্গে সময় কাটাতে পেরে আমরা নিজেরাও আনন্দিত।”
খেলাধুলা শেষে অংশগ্রহণকারী শিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশুরা হলো বনলতা, সাদিয়া, মারিয়া, মরিয়ম, আহাদ, রিমা, সাব্বির, মোশারফ ও ইয়াছিন। অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্য তানজিনা ইসলাম জেরিন, ইভা খন্দকার, রাকিবুল ইসলাম আরিফ, জহিরুল ইসলাম, আবু বক্কর, সিয়াম আহমেদ, আমিনুল ইসলাম জয়, সুমাইয়া শিমু, শাকিল আহমেদ, তুরিন সাবরিন উপস্থিত থেকে কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে এ ধরনের মানবিক ও আনন্দমূলক সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া