শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর, ২০২০ ১২:২৪
আপডেট : ২০ নভেম্বর, ২০২০ ১৫:২৯

গোপনে নিতে চাওয়া ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

গোপনে নিতে চাওয়া ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত

কভিডের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বশরীরে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকলেও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের একটি সান্ধ্য কোর্সের ভর্তিপরীক্ষা আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। তবে এ পরীক্ষা সম্পর্কে জানতেন না স্বয়ং উপাচার্যও। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল মঈন। তিনি জানান, ভুল বোঝাবুঝির অবতারণা হওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।  

এর আগে, একটি বিজ্ঞপ্তি থেকে ভর্তিপরীক্ষার বিষয়টি সম্পর্কে জানা যায়। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন এবং এমবিএ(ইভনিং) ভর্তি পরীক্ষার প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল মঈন স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০ নভেম্বর শুক্রবার বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের এমবিএ (ইভনিং) প্রোগ্রামের (৪৫তম ব্যাচ) ভর্তি পরীক্ষা আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আজিমপুর, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা গ্রহণের সময় সকাল ১১টা - দুপুর ১২টা পর্যন্ত।

তবে পরীক্ষা স্থগিতের কারণ সম্পর্কে অধ্যাপক আব্দুল মঈন বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিধি মেনেই পরীক্ষা নিচ্ছিলাম। কিন্তু এর মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝির অবতারণা হয়েছে। সে কারণেই আমরা পরীক্ষাটা স্থগিত রেখেছি। 

কোভিডের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন বিষয় নিয়েই আলোচনা করেই তো পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক কোনো সিদ্ধান্ত ছিলো না এটা। কভিডের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় যে নীতি অনুসরণ করছে, আমরাও সেই নীতি মেনেই আমরা এগিয়ে গেছি। কাজেই এখানে সাংঘর্ষিক কিছু নেই।

সান্ধ্যকোর্সের বিষয়ে গঠিত কমিটির সুপারিশের বিষয়ে তিনি বলেন, সেটা পাঁচ সপ্তাহের জন্য বলবৎ ছিলো। তারা পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সুপারিশ করবেন, এটা একটা সিদ্ধান্ত ছিলো। পাঁচ সপ্তাহ তো অতিক্রান্ত হয়েছে। সেখানে থেকে তো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত প্রোগ্রাম, বিশ বছর ধরে চলছে। 

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বেশি সান্ধ্য কোর্স আছে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে। অনুষদের নয়টি বিভাগের প্রতিটিতেই সান্ধ্য কোর্স আছে। এসব কোর্সে প্রতিবছর ৪৫টি ব্যাচে দুই হাজার ৯৬৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হন। ক্লাস নেন ২৩০ জন শিক্ষক।

গতবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সান্ধ্য কোর্সের সমালোচনা করে বক্তব্য দেন। পরে এসব কোর্সের যৌক্তিকতা যাচাই ও পর্যালোচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদের ডিনদের নিয়ে একটি কমিটি করা হয়। 

ওই কমিটি গত ৯ ফেব্রুয়ারি সান্ধ্যকালীন কোর্স নিয়ে সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। নীতিমালা প্রয়নের আগে এসব কোর্সে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি সাময়িক বন্ধ রাখার সুপারিশও করেছিলো তারা। 

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর