২৪ আগস্ট, ২০২১ ১৭:৪০

চট্টগ্রামে ৪৯৫ প্রজাতির উদ্ভিদ শনাক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রামে ৪৯৫ প্রজাতির উদ্ভিদ শনাক্ত

চট্টগ্রাম নগরে ৪৯৫ প্রজাতির উদ্ভিদ শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে ৩৬৬ প্রজাতির ওষুধি উদ্ভিদ। শনাক্তকৃত ৪৯৫ প্রজাতির উদ্ভিদের মধ্যে ১৭৭ প্রজাতির বড় বৃক্ষ, ৮৬ প্রজাতির গুল্ম জাতীয়, ১৭৯ প্রজাতির বীরুৎ জাতীয় ও ৫৩ প্রজাতির লতা জাতীয় উদ্ভিদ।

ইফেক্টিভ ক্রিয়েশন অন হিউম্যান ওপেইনিয়ন (ইকো) এর উদ্যোগে চট্টগ্রাম নগরের প্রাণ-প্রকৃতি, উদ্ভিদ বৈচিত্র্য নিয়ে পরিচালিত গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য পাওয়া যায়। গত মার্চ হতে এ গবেষণা পরিচালিত হয়।  

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে তথ্য উপস্থাপন করেন গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী ইকোর সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর  ফারুক রাসেল। এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, ইকো’র সভাপতি মোহাম্মদ সরওয়ার আলম চৌধুরী মনি, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য এস এম আবু ইউসুফ সোহেল, সাহেদ মুরাদ সাকু প্রমুখ। গবেষণা কার্যক্রমে সহযোগী ছিলেন চবির উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী খন্দকার রাজিউর রহমান, ইমাম হোসেন, সজীব রুদ্র, আরিফ হোসাইন, সনাতন চন্দ্র বর্মন, মো. মোস্তাকিম এবং ইকরামুল হাসান। গবেষণায় নগরের ২০টি স্পটে জরিপের মাধ্যমে উদ্ভিদ শনাক্ত করে  আটটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে বড় বৃক্ষ, গুল্ম জাতীয়, বীরুৎ জাতীয়, লতা জাতীয় ও ঔষধি উদ্ভিদ। এছাড়া বিপন্ন প্রজাতি, ভবিষ্যতে বিলুপ্ত হবে এমন এবং এখনো শনাক্ত করা যায়নি এমন প্রজাতিও রয়েছে।  

চবির উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক রাসেল বলেন, পাহাড় নিধন, পাহাড়ে অপরিকল্পিত বসবাস ও স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করা না হলে ভবিষ্যতে গবেষণায় শনাক্তকৃত ১৩ প্রজাতির বিপন্ন উদ্ভিদ এবং ৩৬৬টি ওষুধি উদ্ভিদসহ মোট শনাক্তকৃত ৪৯৫ টি উদ্ভিদের মধ্যে অনেক উদ্ভিদ হারিয়ে যাবে। যা চট্টগ্রাম শহরের পরিবেশ বিনষ্ট করবে বলে আশংকা। তিনি বলেন, পরিবেশ বিপর্যয় রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা, ভবিষ্যতে পরিবেশের ভারসাম্য ঠিক রাখতে ৪৯৫টি উদ্ভিদ প্রজাতি সংরক্ষণ করা এবং সৌন্দর্যবর্ধনের নামে বিদেশী উদ্ভিদের পরিবর্তে দেশীয় ফলজ, বনজ ও ঔষধি উদ্ভিদ ব্যাপকহারে রোপণের জন্য জনগণকে সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, সড়ক-মহাসড়কের পাশে এবং বিভাজকে তিনস্তরে ঔষধি ও দেশীয় ফলজ গাছ রোপণের বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে।

বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার 

 

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর