রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৩ ০০:০০ টা

জাতির শ্রদ্ধার্ঘ্য নিতে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ

মহান বিজয় দিবসকে ঘিরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গতকাল শেষ হয়েছে ধোয়া মোছা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সেই সঙ্গে রং তুলির কাজ। জাতির শ্রদ্ধার্ঘ্য নিতে প্রস্তুত বাঙালি জাতির ঐক্যের প্রতীক এই স্মৃতিসৌধ। আর এখানে সার্বিক নিরাপত্তার সব প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, নেওয়া হয়েছে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মহড়া এবং যাবতীয় প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। ৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল হাসান সরওয়ার্দী ও ৮১ ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে এই প্রস্তুতি কাজ সম্পন্ন করা হয়। এদিকে সেনা ও নৌবাহিনীসহ সামরিক বাহিনীর সদস্যরা শেষ করেছেন তাদের মহড়া। হাতে লাল-সবুজের পতাকা আর রং বেরংয়ের ফুল, হৃদয়ে গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা নিয়ে আগামীকাল ভোর থেকে লাখো মানুষের ঢল নামবে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে। 
দেশের বীর সন্তানদের গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানাতে ফুলে ফুলে ঢেকে যাবে স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদি।
সাভার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাথী প্রিয় বড়ুয়া জানিয়েছেন, ফুলে-ফুলে এবং সবুজের আল্পনায় জাতীয় স্মৃতিসৌধকে সাজাতে নেওয়া সব প্রস্তুতি এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। রং-তুলির কাজ, বিদেশ থেকে আনা হয়েছে বিভিন্ন লাইট, পরিষ্কার ও সংস্কার করা হয়েছে লেকসহ ১০৮ একরজুড়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধের পুরো এলাকা। বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা সফল করতে স্মৃতিসৌধের মূল গেটে নোটিস দিয়ে জনসাধারণের প্রবেশাধিকার ১৩, ১৪, ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই পাশে ও ব্রিজসহ বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন স্থানের পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের পাশাপাশি শতাধিক সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সাভারের আমিনবাজার থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত পাঁচ স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। প্রায় তিন হাজার পুলিশ, র‌্যাব ও নিরাপত্তা কর্মী নিয়োজিত রাখাসহ বাড়ানো হয়েছে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি। সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম মোল্লা জানান, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেত্রীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জাতীয় স্মৃতিসৌধ সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর