শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জুন, ২০১৯ ২৩:০১

ওসমানীতে বাক্সবন্দী কোটি টাকার মেশিন

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

ওসমানীতে বাক্সবন্দী কোটি টাকার মেশিন
সিলেটে বাক্সবন্দী অবস্থায় পড়ে থাকা দুই কোটি টাকা মূল্যের হার্ট লাং মেশিন -বাংলাদেশ প্রতিদিন

ওপেন হার্ট সার্জারি চিকিৎসার জন্য চলতি বছর ৬ জানুয়ারি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল হার্ট লাং মেশিন। যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ১ কোটি ৮২ লাখ ৪০ হাজার ৪৫০ টাকা মূল্যের মেশিনটি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হস্তান্তর করেছিল কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি)।

কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, অভিজ্ঞ সার্জন ও দক্ষ জনবলের অভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। ওসমানীতে অব্যবহৃত পড়ে থাকা মেশিনটি ঢাকায় ফিরিয়ে নিতে চিঠি পাঠিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর পর থেকে সিলেটে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। মেশিনটি ফেরত না নিয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ কার্ডিয়াক সেন্টার চালুর দাবি জানাচ্ছে মানুষ।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে         হাসপাতালের তৎকালীন কার্ডিওভাসকুলার সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহবুবুর রহমানের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে একটি হার্ট লাং মেশিনের আবেদন করা হয়। ওই চাহিদাপত্রের পরিপ্রেক্ষিতে মূল্যবান মেশিনটি এসেছিল হাসপাতালে। কিন্তু ডা. মাহবুবুর রহমানের আকস্মিক মৃত্যুর পর কার্ডিওভাসকুলার সার্জনের অভাবে মেশিনটি আর ব্যবহার হয়নি। ফলে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস ধরে বাক্সবন্দী অবস্থায় পড়ে থাকায় মেশিনটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জানা যায়, হার্ট লাং মেশিনের মাধ্যমে ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ কার্ডিয়াক সেন্টারের প্রয়োজন। এ ছাড়া দক্ষ কার্ডিয়াক সার্জন, অ্যাসিস্ট্যান্ট ও নার্স প্রয়োজন। কিন্তু ওসমানী হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ কার্ডিয়াক সেন্টার নেই। কার্ডিয়াক সেন্টার করার মতো কোনো ভবনও নেই।

এ ছাড়া হাসপাতালে কোনো কার্ডিয়াক সার্জন ও দক্ষ জনবল না থাকায় পরীক্ষামূলকভাবেও মেশিনটি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। এমতাবস্থায় অব্যবহৃত পড়ে থাকা মূল্যবান মেশিনটি ব্যবহারের জন্য ঢাকায় ফিরিয়ে নিতে ১১ এপ্রিল ওসমানী থেকে চিঠি প্রেরণ করা হয়। এ খবর চাউর হলে সিলেটে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। মেশিনটি ঢাকায় ফিরিয়ে না নেওয়ার দাবিতে শুরু হয় আন্দোলন। শুক্রবার বিকালে ‘সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন’ ব্যানারে নগরীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মানববন্ধন থেকে মূল্যবান মেশিনটি ওসমানী হাসপাতাল থেকে ফেরত না নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

এদিকে মেশিনটির ব্যবহারের সম্ভাব্যতা নিয়ে গতকাল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ইউনুছুর রহমানের সঙ্গে দেখা করেন ‘সিলেট উন্নয়ন ও ঐতিহ্যের স্মারক সংরক্ষণ পরিষদ’ নেতারা। এ সময় পরিচালক হার্ট লাং মেশিনটি আপাতত ফেরত না দেওয়ার কথা জানান। এ ছাড়া হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ কার্ডিয়াক সেন্টার স্থাপনেরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের মেশিনটি ফেরত যাওয়া প্রসঙ্গে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ইউনুছুর রহমান জানান, বাক্সবন্দী অবস্থায় পড়ে থাকা মূল্যবান হার্ট লাং মেশিনটি ওসমানীতে ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। তাই মেশিনটি যাতে নষ্ট না হয় সে জন্য এটি ফেরত নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে ওসমানীতে কার্ডিয়াক সেন্টার নির্মাণ হলে এ রকম একটি মেশিন ফেরত দেওয়া হবে বলে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। একটি মহল হাসপাতালের সুনাম নষ্ট করতে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

ওসমানী হাসপাতালে বাক্সবন্দী কোটি টাকার মেশিন ফেরত যাওয়ার সিদ্ধান্তে অসন্তোষ, কার্ডিয়াক সেন্টার নির্মাণের দাবি

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর