শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ ডিসেম্বর, ২০২০ ২২:৪৬

সিলেট বিএনপির গৃহবিবাদ এবার রাজপথে

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

সিলেট বিএনপির গৃহবিবাদ এবার রাজপথে

সিলেট বিএনপির দীর্ঘদিনের গৃহবিবাদ এবার রাজপথ পর্যন্ত পৌঁছেছে। বিবদমান দুই গ্রুপের নেতারা তাদের কর্মী নিয়ে রাজপথে শোডাউন করে নিজেদের বলয়ের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছেন। বিবদমান গ্রুপ দুটির মধ্যে একটির নেতৃত্বে রয়েছেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার মুক্তাদির আহমদ। অন্যটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। বিজয় দিবসের দিন ‘বিজয় র‌্যালি’র নামে উভয় গ্রুপের পাল্টাপাল্টি শোডাউন দলের অন্তর্কোন্দল প্রকাশ্যে এনেছে। এরপর থেকে উভয় গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বিষোদগার ও গণমাধ্যমে একে অন্যকে দোষারোপ করে দেওয়া বিবৃতি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। দলের এই দুঃসময়ে ঐক্যের পরিবর্তে বিভক্তিকে ভালো চোখে দেখছেন না তারা। বিজয় দিবসের দিন খন্দকার মুক্তাদিরের নেতৃত্বে রেজিস্টারি মাঠ থেকে বিজয় র‌্যালি বের করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাহের শামীম। এই বলয়ের সঙ্গে রয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ২১ সদস্যের ১২ জন।

 এ ছাড়া কুমারপাড়া থেকে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের ব্যানারে পৃথক আরেকটি বিজয় র‌্যালি বের হয়। বিজয় র‌্যালি করে উভয় গ্রুপের নেতা-কর্মীরা শহীদ মিনারে এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

জেলা ও মহানগর বিএনপির ব্যানারে পৃথক র‌্যালি ও শ্রদ্ধা নিবেদন নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। উভয় গ্রুপের নেতারা ব্যস্ত হয়ে পড়েন নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়িতে। একে অপরকে কটাক্ষ করে গণমাধ্যমে বিবৃতিতেও পাঠাতে থাকেন।

পৃথক র‌্যালি করা প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলয়ের নেতা হিসেবে পরিচিত এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমান আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরের স্বেচ্ছাচারিতায় দল মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সাবেক সভাপতি আবুল কাহের শামীম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদকে কাউন্সিলের মাধ্যমে পুনরায় নির্বাচিত করতে তিনি তাদের পছন্দমতো লোক দিয়ে উপজেলা কমিটি করেছেন।’ তবে এমরান আহমদ চৌধুরীর এমন অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা জায়গীরদার বলেন, ‘আহ্বায়ক কমিটির সবার মতামত নিয়েই উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি গঠনের পর কয়েকজন এর বিরোধিতা করছেন। এটা শুধু বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা। স্বেচ্ছাচারিতার যে অভিযোগ তারা করছেন তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’

এদিকে, পৃথক র‌্যালি ও শ্রদ্ধা নিবেদন প্রসঙ্গে মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, ‘আরিফুল হক চৌধুরী জেলা ও মহানগর বিএনপির ব্যানারে শ্রদ্ধা নিবেদন বা বিজয় র‌্যালি করার অধিকার রাখেন না। তিনি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে র‌্যালি করেছেন। এর সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই।’ সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমার মনে হয় সিলেট বিএনপিকে নিয়ে কেউ কেউ হয়তো প্রতিযোগিতা করতে চাইছেন। যে কারণে দলীয় কার্যক্রমে আমাকে ডাকাই হয় না। তবে আমার নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী দেখে অনেকের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর