শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

চট্টগ্রামে জ্যামিতিক হারে বেড়েছে প্রতারণা

বেকারত্ব ও কর্মহীনতাকে দায়ী করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে প্রতারণা। কখনো সরকারি কর্মকর্তা সেজে কিংবা নম্বর ক্লোন করে, কখনো মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানির এজেন্ট বা অনলাইন-অফলাইনে ঘটছে একের পর এক প্রতারণার ঘটনা। অপরাধ বিশেযজ্ঞদের মধ্যে করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে বেকারত্ব ও কর্মহীনতা বেড়ে যাওয়া ঊর্ধ্বমুখী প্রতারণার মতো অপরাধগুলো। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও অপরাধ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘করোনা প্রাদুর্ভাবকালে অনেকে বেকার হয়ে পড়েছেন। তাই পরিবারিক ব্যয় নির্বাহ করতে মৌসুমি প্রতারকের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে চট্টগ্রামে বেড়েছে প্রতারণা।’ তিনি বলেন, ‘প্রতারণা প্রতিরোধে পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রতারণার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগ নিতে হবে।’ সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, ‘নগর পুলিশ ছোট থেকে বড় সব অপরাধকে সমান চোখে দেখে। প্রতারণার ক্ষেত্রেও অভিযোগ পেলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এরই মধ্যে প্রতারণার কিছু অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ জানা যায়, করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই চট্টগ্রামে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে প্রতারণা। কখনো সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সেজে, কখনো মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানির এজেন্ট সেজে সাধারণ লোকজনের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে চক্রের সদস্যরা। শুধু তাই নয়, সরকারি কর্মকর্তাদের মোবাইল নম্বর ‘ক্লোন’ করে ঘটছে একের পর এক ঘটনা। গতানুগতির প্রতারণার পাশাপাশি বেড়েছে ইন্টারনেটভিত্তিক প্রতারণাও। নগর ও জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, করোনা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে কিছু কিছু অপরাধ নিম্নমুখী হলেও ঊর্ধ্বমুখী প্রতারণার মতো ঘটনা। প্রাদুর্ভাবের এ সময় প্রতারণার হার বেড়েছে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ। থানা পুলিশের কাছে মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগ আসছে নিয়মিত। পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নামে ফেসবুক আইডি খুলে প্রতারণার অভিযোগে ২৮ জুলাই জেলার সাতকানিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় মোহাম্মদ নোমান নামে এক যুবককে। পুলিশ জানায় গ্রেফতার হওয়া নোমান একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নামে ফেসবুক আইডি খোলেন। এরপর চাকরি দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করেন। ভুয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেজে প্রতারণার অভিযোগে গত ৬ জুলাই আকবর শাহ থানা পুলিশ গ্রেফতার করা হয় খোরশেদ আলম নামে এক ব্যক্তিকে। গ্রেফতারের পর পুলিশ জানায়, খোরশেদ আলম অষ্টম শ্রেণি পাস হলেও বিশেযজ্ঞ চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগী দেখার নামে প্রতারণা করে আসছে। ঘটক সেজে ধনাঢ্য পরিবারের ডিভোর্সি কন্যা, মধ্যবয়সী পুরুষ এবং প্রবাসীদের সঙ্গে বিয়ের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে ২৫ জুন রাউজান থানা পুলিশ গ্রেফতার করে ওকার উদ্দিন ওরফে আরিফ ও তার স্ত্রী সেলিনা আকতারকে। একই দিন নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন সিনেমা প্যালেস এলাকা থেকে প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, এ চক্রের সদস্যরা নকল স্বর্ণের বার দিয়ে সাধারণ লোকজনের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। ২৪ এপ্রিল নগরীর পাহাড়তলী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কথিত সাংবাদিক ও দুই নারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেফতারকৃতরা প্রেমের সম্পর্কের অভিনয় করে তরুণদের বাসায় নিয়ে আসেন। এরপর নগ্ন ছবি তুলে আদায় করেন মোটা অঙ্কের টাকা।