শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩২

পাবনায় অজানা রোগ আতঙ্ক

দুই বোনের আকস্মিক মৃত্যু

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনায় অজানা রোগ আতঙ্ক

পাবনার ফরিদপুরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা গেছে সাথী ও বীথি নামে দুই বোন। গত শুক্রবার রাতে সাথী এবং শনিবার সকালে বীথি মারা যায়। তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে পারেননি চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্টরা। খাদ্যে বিষক্রিয়া অথবা ভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা চিকিৎসকদের। সাথী ও বীথি ফরিদপুর উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের শহীদ প্রামাণিকের মেয়ে। সাথী অষ্টম এবং বীথি চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। একই উপসর্গ নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় ওই গ্রামের গৃহবধূ তাসলিমা ও রেশমা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্থানীয়দের মধ্যে অজানা রোগ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বৃহস্পতিবার স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পর অসুস্থ হয় সাথী ও বীথি। তাদের মাঝে মাঝে বমি হতে থাকে। বাড়ির সদস্যরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত মনে করে দুই বোনকে পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। বীথির অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে পাঠানো হয় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে। এরই মধ্যে শুক্রবার রাতে সাথী বাড়িতে মারা যায়। পরদিন সকালে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যু হয় বীথির। স্থানীয়রা জানান একই গ্রামের তাজ প্রামাণিকের স্ত্রী তসলিমা ও ফজলুল হকের স্ত্রী রেশমাও একইভাবে অসুস্থ হন। তাদেরও বমি হচ্ছে। এ দুজনকে ফরিদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসকরা তাদের সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। প্রতিবেশী মনিরুল ইসলাম বলেন, সাথী-বীথির আকস্মিক মৃত্যু এবং আরও দুই গৃহবধূ একই উপসর্গে অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমাদের মধ্যে ভয় কাজ করছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। ফরিদপুরের ইউএনও জানান, দুই বোনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক আল আকসার আনন জানান, স্বজনরা জানিয়েছে ঝালমুড়ি খাওয়ার পর দুই বোন অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফুড পয়জনিং বা ভাইরাস সংক্রমণে তাদের মৃত্যু হতে পারে। ফরিদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক লুলুওয়াল মারজানের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লুলুওয়াল মারজান জানান, সাথী ও বীথির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তবে তাদের অসুস্থতার কারণ মানসিক ভীতি। আমরা এলাকাবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে বিশুদ্ধ পানি পান ও খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর