শিরোনাম
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ২১:০৯

গণমাধ্যমে দুর্নীতির তথ্য দেওয়ায় যুবককে পেটানোর অভিযোগ

বাগেরহাট প্রতিনিধি:

গণমাধ্যমে দুর্নীতির তথ্য দেওয়ায় যুবককে পেটানোর অভিযোগ

বাগেরহাটের ফকিরহাটে প্রকাশ্য দিবালোকে ইসরাফিল শেখ (৩২) নামে এক যুবকের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ফকিরহাট উপজেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

নির্মাণাধীন খুলনা-মোংলা রেলওয়ে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে নানা অনিয়ম, দুর্নীতির তথ্য গণমাধ্যমে তুলে ধরায় তার উপরে এই হামলা হয় বলে অভিযোগ ওই যুবকের। সোমবার সকালে ফকিরহাট উপজেলার লখপুর ইউনিয়নের জাড়িয়া মাইটকুমড়া এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।

ইসরাফিল শেখ ফকিরহাট উপজেলার লখপুর ইউনিয়নের জাড়িয়া মাইটকুমড়া গ্রামের ছাত্তার শেখের ছেলে। 

গত শুক্রবার একটি বেসরকারী টেলিভিশনে বাগেরহাটে নির্মাণাধীন খুলনা-মোংলা রেলওয়ে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের নানা অনিয়ম, দুর্নীতির হরিলুট-৩ নামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। এই প্রকল্পের জন্য ইসরাফিলের জমিও অধিগ্রহণ করে সরকার। জমির ক্ষতিপূরণে টাকা প্রদানে স্থানীয় দালালরা প্রশাসনের সহযোগিতায় লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছিল এই যুবকসহ স্থানীয় জমির মালিকরা।

হামলার শিকার ইসরাফিল শেখ অভিযোগ করেন, সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাগেরহাট শহরে আসার পথে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার খোরশেদ আলমের বাড়ির সামনে পৌঁছালে আজিজুল হকের নেতৃত্বে ৫/৬ জনের একটি দল লাঠিসোটা নিয়ে আমার উপর হামলা চালায়। এসময় আমার ডাকচিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসলে তারা পালিয়ে যায়। এই আজিজুল হক নির্মাণাধীন খুলনা-মোংলা রেলওয়ে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে নিজে ভুয়া জমির মালিক সেজে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তার এই দুর্নীতির তথ্য গণমাধ্যমকে দেয়ায় আজিজুল ক্ষিপ্ত হয়ে আমার উপর এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ ইসরাফিল শেখের। আমি ঘটনাটি পুলিশকে জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, খুলনা-মোংলা রেলওয়ে প্রকল্পে সরকার জমি অধিগ্রহণে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। ওই জমি অধিগ্রহণের শুরুতে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজসে বেশকিছু লোক ভুয়া জমির মালিক সেজে সরকারের মোট অংকের টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন। তার মধ্যে ফকিরহাট উপজেলার লখপুর ইউনিয়নের জাড়িয়া মাইটকুমড়া গ্রামের আজিজুল হক অন্যতম। তিনিসহ এই এলাকার বেশ কিছু ভুয়া জমির মালিক সেজে রেলওয়ে প্রকল্পের কয়েক কোটি টাকা ইতিমধ্যে উত্তোলন করেছেন। যার তথ্য প্রমাণ আমার হাতে রয়েছে। সম্প্রীতি ওই অনিয়ম, দুর্নীতির তথ্য প্রমাণ তুলে ধরে স্থানীয় লোকজন ওই টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দেয়। আমি ওই অনুসন্ধানী টিমকে সহযোগিতা করায় ক্ষুব্ধ হয়ে আজিজুল হক আমার উপর এই হামলা চালিয়েছে। আমি ওই হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।

হামলার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ফকিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ ন ম খায়রুল আনাম বলেন, হামলায় আহত ইসরাফিল শেখকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের ধরা সম্ভব হয়নি। তাদের ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। আহত ইসরাফিল শেখ সুস্থ হয়ে ফিরে আসলে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হবে।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হামলার অভিযোগ ওঠা আজিজুল হক তা অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করেন ইসরাফিলের বিরুদ্ধে। আজিজুল হক অভিযোগ করেন, আমার প্রতিবেশি ইসরাফিল শেখ সম্প্রতি আমার ছোট ভাইয়ের বউ নাসরিণের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ওই চাঁদার টাকা না দেয়ায় ইসরাফিল আমার ভাই বউ নাসরিণ ও ভাতিজা মিরাজের উপর হামলা করেছে। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য