বগুড়ায় আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়াই বদলে যাচ্ছে কৃষি। চলতি মৌসুমে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনে চলছে বোরো ধান কাটা মাড়াই। পাকা ধান ঘরে তুলতে এই মেশিনের ব্যবহার কৃষকদের অনেকটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।
কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে। প্রাচীন পদ্ধতির চাষাবাদের বদলে যান্ত্রিকতার ব্যবহারে দিনদিন বদলে যাচ্ছে কৃষি। ধান কাটা মাড়াইয়ে শ্রমিক সংকটে কৃষক যখন দিশেহারা, তখন এই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অনেকটা স্বস্তি দিয়েছে কৃষকদের। এটির ব্যবহারে একদিকে যেমন খরচের স্বাশ্রয় হচ্ছে, অন্যদিকে কম সময়ে খুব সহজেই নির্বিঘ্নে ধান ঘরে তুলতে পারছেন কৃষক।
জানা যায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিশেষ করে নন্দীগ্রাম, কাহালু ও সদর উপজেলায় কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা ও মাড়াই করা হচ্ছে। এই আধুনিক প্রযুক্তির ফলে কৃষকরা কম খরচে ও দ্রুত সময়ে ধান ঘরে তুলতে পারছেন। যা শ্রমিক সংকট মেটাতে বড় ভূমিকা রাখছে। চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় শ্রমিক দিয়ে এক বিঘা জমির ধান কাটতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। আর হারভেস্টার মেশিনে আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকায় সময় লাগছে মাত্র ১৫-২০ মিনিট। খড় থেকে ধান আলাদা হয়ে ডেলিভারি পাইপ দিয়ে বস্তায় ভরে ধান সহজেই ঘরে তুলছেন কৃষক। তবে খড় জমিতেই থাকছে।
কাহালু উপজেলার নারহট্র গ্রামের কৃষক মো. সানোয়ার হোসেন জানান, কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ১ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তুলতে পারছি। সঠিক সময়ে শ্রমিক না পাওয়া ও শ্রমিকের মূল্য বেশি হওয়ায় মেশিন দিয়ে ধান কাটা মাড়াই করছি। এতে খরচ কম হচ্ছে।
এদিকে বোরো মৌসুমে কৃষকদের ধান উৎপাদন করতে সেচ, জমি চাষ, সার, কীটনাশকসহ নানা খরচের ব্যয় বহন করতে হিমশিম খেতে হয়। পাকা ধান ঘরে তুলতে কৃষকদের শ্রমিক সংগ্রহে সংকটের মধ্যে পড়তে হয়। শ্রমিক খুঁজতে হন্যে হয়ে রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড একজন কৃষককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়। এমনকি দিনও চলে যায়।
ক্ষেতে ধান পেকে গেলেও শ্রমিক সংকটের কারণে উপযুক্ত সময়ে ধান ঘরে তুলতে পারেন না কৃষক। এমন বাস্তবতায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষিতে আমল পরিবর্তন এনেছে ধান কাটা মাড়াইয়ের মেশিন কোম্বাইন হারভেস্টার। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার জমি চাষ, ধান রোপণ, নিড়ানি, কাটা মাড়াই এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন কৃষকরা।
কাহালু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, ইতোমধ্যে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় ১২জন কৃষককে ভূর্তকি মূল্যে কোম্বাইন হারভেস্টার মেশিন প্রদান করা হয়েছে। শ্রমিক সংগ্রহে দুর্ভোগ এড়াতে ও সহজে ধান কাটা মাড়াইয়ে কৃষকরা এই মেশিনের প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
বিডি প্রতিদিন/আরকে