লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তিনটি গ্রামের পাঁচ শতাধিক পরিবার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন।
বুধবার সকাল ৯টায় উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের সুন্দ্রাহবী মুন্সিপাড়ায় ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন মওলানা মো. আব্দুল মাজেদ। এখানে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের জন্যও আলাদাভাবে ঈদ জামাতের ব্যবস্থা ছিল।
সরেজমিনে উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়ন সুন্দ্রাহবী মুন্সীপাড়া জামে মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠ, চন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর বালাপাড়া পানি খাওয়া ঘাট জামে মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠ এবং বোতলা আহলে হাদিস বাইতুল আমান জামে মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠে পৃথক এই তিন স্থানে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আযহার নামাজ পড়তে দেখা গেছে। নামাজ শেষে পশু কোরবানি করেন তারা।
ঈদগাহে উপস্থিত মুসল্লিরা জানান, ২০১১ সাল থেকে তুষভান্ডার ইউনিয়নের সুন্দ্রাহবী মুন্সিপাড়া জামে মসজিদ, চন্দ্রপুর ইউনিয়নের পানি খাওয়ার ঘাট আহলে হাদিস জামে মসজিদ ও একই ইউনিয়নের বোতলা এলাকায় এই ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতি বছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে রোজা ও ঈদ পালন করেন এসব গ্রামের মুসল্লিরা।
মুন্সীপাড়ার ঈদগাহ মাঠের সভাপতি মো. কায়েদে আজম জিন্নাহ বলেন, সারা বিশ্বে একই দিনে ঈদ হবে— এই বিশ্বাস থেকেই ২০১১ সাল থেকে আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, শবে-কদর, শবে মেরাজসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছি। ঈদগাহে ৫ শতাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। পুরুষদের সঙ্গে নারীরাও অন্য জামাতে অংশ নেন।
ঈদগাহ মাঠের ইমাম আব্দুল মাজেদ বলেন, নবী-রসুলের পথ অনুসরণ করে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আমরা ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো পালন করি। আমাদের মতো দেশের সকল মানুষেরও উচিত ঈদ পালন করা, এতে ঈদের আনন্দ আরও বেড়ে যাবে।
ঈদ জামায়াতের মুসল্লি রিপন আলী জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এই এলাকার মানুষ ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, শবে-কদর, শবে মেরাজসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে আসছে, কোনো প্রকার সমস্যা হচ্ছেনা।
কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু সিদ্দিক বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে অনেক আগে থেকে এসব এলাকায় ঈদের নামাজ আদায় করে আসছে কিছু মানুষ। নামাজের সময় মুসল্লিদের নিরাপত্তায় পুলিশের টহল জোরদার ছিল।
বিডি প্রতিদিন/কেএ