শরীয়তপুর সদর উপজেলায় ঝড়ো হাওয়া ও প্রবল বৃষ্টির কারণে একটি চারতলা ভবনের রেলিং ভেঙে পাশের টিনশেড ঘরের ওপর পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সানজিদা (১২) নামে এক শিশুকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার পৌর এলাকায় ‘ইতালি প্লাজা’ নামে একটি ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে ঝড়ো হাওয়া ও প্রবল বৃষ্টির কারণে শরীয়তপুর জেলার ছয়টি উপজেলায় অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আহতদের বেশিরভাগই ঘর ভেঙে পড়া, গাছ উপড়ে পড়া এবং বজ্রপাতে আহত হয়েছেন। এর মধ্যে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ছয়জন ভর্তি রয়েছেন। দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালাম নামে এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের রেলিং হঠাৎ ভেঙে পাশের একটি টিনশেড ঘরের ওপর পড়ে। এতে ঘরটি আংশিক ধসে পড়ে এবং ভেতরে থাকা কয়েকজন আহত হন। দুর্ঘটনার সময় বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহত সানজিদা জানায়, সকালে তারা বাসায় খেলাধুলা করছিল। এ সময় হঠাৎ বিকট শব্দে ঘরের ছাদ ও দেয়ালের অংশ ভেঙে তাদের ওপর ইট-পাথর পড়ে। এতে সে গুরুতর আহত হয়।
আহত খাদিজা নামে এক ভাড়াটিয়া বলেন, আমাদের ঘরের দরজা-জানালা ভেঙে গেছে। আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে আহত হয়েছে। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে এখন কোথায় থাকব বুঝতে পারছি না। প্রশাসনের কাছে দ্রুত সহযোগিতা চাই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবন মালিক তিনতলা ভবনের অনুমতি নিয়ে চারতলা নির্মাণ করছিলেন। নির্মাণে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন। তারা এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান।
ঘটনার পর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিডি-প্রতিদিন/এমএল