সুধীর সেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের খ্যাতিমান অধ্যাপক ছিলেন। তিনি ১৯৫৯ সালে অবসর গ্রহণ করেন। অবসরের প্রায় ৭০ বছর পর তিনি সম্প্রতি আবারও ফিরে এসেছেন প্রিয় কর্মস্থলে—অবশ্য শরীরে নয়, স্মৃতিতে। কারণ, ওই বছরই তিনি প্রয়াত হন।
সুধীর সেন শান্তিনিকেতনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রিয় ছাত্র ছিলেন। ভিক্টোরিয়া কলেজে যোগদানের আবেদনপত্রের সঙ্গে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি প্রত্যয়নপত্র সংযুক্ত করেছিলেন। সেখানে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘আমার সুধীর বাংলা জানে’।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, সুধীর চন্দ্র সেনের পিতার নাম সত্যেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস। তাঁদের বাড়ি ছিল কুমিল্লা নগরীর তালপুকুরপাড় এলাকায়। ১৯২৬ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কুমিল্লায় এলে ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্র-শিক্ষকদের পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেই সংবর্ধনার মানপত্রটি লিখেছিলেন সুধীর চন্দ্র সেন।
পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আবদুল হাই সুধীর চন্দ্র সেনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে তিনি এক বছর শিক্ষকতা করেন। এরপর ভিক্টোরিয়ার প্রতি ভালোবাসার টানে আবার কুমিল্লায় ফিরে আসেন। তাঁর স্ত্রী সুধা সেনও ভিক্টোরিয়া কলেজে শিক্ষকতা করতেন। তিনি একজন সাহিত্যিক ও সমাজসেবী মহীয়সী নারী ছিলেন।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, অধ্যাপক সুধীর সেন ও সমাজসেবী সুধা সেনের মেয়ে কথাসাহিত্যিক সুনন্দা কবীর। তিনি বাবা-মায়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ভিক্টোরিয়া কলেজে ‘সুধীর-সুধা সাহিত্য পুরস্কার তহবিল’ নামে একটি বার্ষিক বৃত্তি চালু করেছেন। এ তহবিল গঠনের জন্য তিনি এককালীন চার লাখ টাকা অনুদান দেন।
এ সময় ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার ভূঁঞা, বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মশিউর রহমান কাজল, ট্রাস্টি সুনন্দা কবীরের প্রতিনিধি আহসানুল কবীর, ট্রাস্ট সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ইমাম হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সুনন্দা কবীর বলেন, আমিও ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ছিলাম। ভিক্টোরিয়ার ছাত্র-শিক্ষকরা একটি পরিবারের মতো। বাংলা বিভাগের জন্য কোনো বৃত্তি চালু ছিল না। তাই বাবা ও মায়ের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এই বৃত্তি চালু করেছি। আমার সীমিত সামর্থ্য থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করি, ভবিষ্যতে অন্যরাও যুক্ত হলে এর পরিসর আরও বাড়বে।
ম্যানেজিং ট্রাস্টির প্রতিনিধি ও ইতিহাস গবেষক আহসানুল কবীর বলেন, অধ্যাপক সুধীর সেন ও সুধা সেনের মেয়ে সুনন্দা কবীরকে ভিক্টোরিয়া কলেজে এই বৃত্তি চালুর মহৎ উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানাই। ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টির প্রতিনিধি হিসেবে সম্পৃক্ত হতে পেরে আমি গর্বিত। আশা করছি, এই বৃত্তি কুমিল্লার শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল বাশার ভূঁঞা বলেন, অধ্যাপক সুধীর সেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের একজন খ্যাতিমান শিক্ষক ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন এই কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। তাঁর স্ত্রী সুধা সেনও এখানকার শিক্ষক ছিলেন। তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলা বিভাগের জন্য বৃত্তি চালু করা নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার উদ্যোগ। এটি নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা, সেবা ও জ্ঞানচর্চায় আরও অনুপ্রাণিত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।