টসটসে, রসালো ও সুস্বাদু মৌসুমি ফলে ভরে উঠেছে দেশের তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। আম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, লটকন, ড্রাগন, রামবুটান, জাম, জামরুল, গাবসহ দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফলে সয়লাব এখন পাহাড়ের হাট-বাজার। বাম্পার ফলনের কারণে এ সময় তিন পার্বত্য জেলাকে অনেকেই ‘মৌসুমি ফলের রাজধানী’ বলে অভিহিত করছেন।
বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাহাড়ি ফলের মিষ্টি সুবাসে আকৃষ্ট হয়ে দূর-দূরান্ত থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা ছুটে আসছেন। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ফল সংগ্রহ করে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। রাজধানী ঢাকার ফলের বাজারেও এখন সহজেই মিলছে পার্বত্যাঞ্চলের এসব ফল।
বর্তমানে পাহাড়ের বাজারগুলোতে আম, কাঁঠাল, লিচু ও আনারসসহ দেশি-বিদেশি ব্যাপক সরবরাহ রয়েছে। প্রতিদিনই বসছে মৌসুমি ফলের জমজমাট হাট।
স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী মাছুদ রানা বলেন, পাহাড়ে উৎপাদিত ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। অনলাইনেও এসব ফলের বিক্রি বাড়ছে। ফলে ব্যবসায়ীরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি ক্রেতারাও সহজে মানসম্মত ফল পাচ্ছেন।
তরুণ উদ্যোক্তা মো. নাছির বলেন, প্রতিবছর বাগান মালিকদের কাছ থেকে পাইকারি দামে আম কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করেন তারা। এতে তাদের আয়ও বাড়ছে।
রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর তিন পার্বত্য জেলায় মৌসুমি ফলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। রাঙামাটি সদর, নানিয়ারচর, বিলাইছড়ি, কাপ্তাই, কাউখালী, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু, বাঘাইছড়ি ও রাজস্থলী উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্তীর্ণ বাগানে নানা ধরনের ফলের চাষ হয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রাঙামাটি জেলায় এ বছর প্রায় ৩২ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন মৌসুমি ফলের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এর মধ্যে প্রায় ৭৪৫ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। আম্রপালি, রাংগুই, হাড়িভাঙ্গা, বারি-৪, গৌরমতি, মল্লিকা, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, হিমসাগর, ব্যানানা, ক্ষীরশাপাত, ফজলি ও কাটিমনসহ বিভিন্ন জাতের আমের উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৯ দশমিক ৮ মেট্রিক টন।
এ ছাড়া প্রায় ৩৮৩ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। বাজারে চায়না-৩, চায়না-২, বোম্বাই, দেশি, বারি-৩, রাজশাহী ও বেদানা জাতের লিচুর সরবরাহ ছিল উল্লেখযোগ্য। চলতি মৌসুমে প্রায় ৯ দশমিক ৫ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদিত হয়েছে।
তবে আনারসের আবাদ কিছুটা কমেছে। গত বছর প্রায় ১১ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আবাদ হলেও এ বছর তা কমে ৯ হাজার ৪৩ হেক্টরে নেমে এসেছে। এরপরও উৎপাদন হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন।
রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাঙামাটিতে বিভিন্ন মৌসুমি ফলের চাষ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে উৎপাদনও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হচ্ছে। তিনি বলেন, কৃষকরা আরও সচেতন হলে ভবিষ্যতে এ উৎপাদনের ধারা ধরে রাখা সম্ভব হবে এবং পার্বত্যাঞ্চল দেশের অন্যতম ফল উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে আরও সমৃদ্ধ হবে।
বিডি-প্রতিদিন/এআইএস