শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ এপ্রিল, ২০১৭ ২৩:৩৬

আমাদের ব্যবহার যেন হয় সুন্দর

মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন

আমাদের ব্যবহার যেন হয় সুন্দর

ব্যবহারে বংশের পরিচয়। একটা সময় ছিল, যখন মুসলমানের পরিচয় জানা যেত ব্যবহার দ্বারা। কথাবার্তা দ্বারা। আচার-আচরণ দ্বারা। ইসলামের সৌন্দর্য ফুটে উঠত ইমানদারের চারিত্রিক মাধুর্যতা দ্বারা। আর এখন কেন যেন আমাদের ব্যবহার, লেনদেন ও আচার-আচরণ সব কিছু দিন দিন নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। পবিত্র কোরআনে মুসলমানের আচার-ব্যবহার কেমন হওয়া উচিত তার বিবরণ এসেছে, ‘আর তোমরা সবাই আল্লাহর বন্দনা কর। তার সঙ্গে কাউকে শরিক করিও না। মাতা-পিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর। আত্মীয়, এতিম ও মিসকিনদের সঙ্গে সদাচরণ কর। আত্মীয়, প্রতিবেশী, নিকটবর্তীজন, পার্শ্ববর্তী লোকজন, সহচর, মুসাফির (ভ্রমণকারী) এবং তোমার অধীনস্থ দাস-দাসীসহ সবার প্রতি ইহসান ও ভালো ব্যবহার কর। নিশ্চিতভাবে জেনে রাখ যে, আল্লাহ এমন ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না, যে অহংকারী ও গর্বকারী।’ (সূরা আন্ নিসা : ৩৬) এই আয়াত দ্বারা বোঝা গেল যে, আমরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত যত লোকের সঙ্গে উঠা-বসা করি, কথা বলি, লেনদেন করি সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। যদি কোনো অভাবী মানুষ কিছু চায় আর আমরা তাকে তা দিতে না পারি তবু তার সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হবে। এ বিষয়ে ইরশাদ হচ্ছে, ‘যদি তাদের থেকে (অর্থাৎ অভাবী, আত্মীয়-স্বজন, মিসকিন ও মুসাফির থেকে) তোমাকে মুখ ফিরিয়ে নিতে হয় এ জন্য যে, এখন তুমি আল্লাহর প্রত্যাশিত রহমতের সন্ধান করে ফিরছ (অর্থাৎ তোমার সামর্থ্য নেই), তাহলে তাদের সঙ্গে মধুর ও নরম ব্যবহার কর।’ (সূরা বনী ইসরাঈল : ২৮) হাদিস শরিফেও নম্র আচরণের প্রতি ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন : আল্লাহপাক স্বয়ং নম্র, তাই তিনি নম্রতাকেই ভালোবাসেন। তিনি কঠোরতার জন্য যা দান করেন না তা নম্রতার জন্য দান করেন। নম্রতা ছাড়া অন্য কিছুতেই তা দান করেন না। (মুসলিম শরিফ) মুসলিম শরিফের অপর বর্ণনায় এসেছে, হজরত জারীর (রা.) বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন : যে ব্যক্তি নম্রতা থেকে বঞ্চিত সে প্রকৃত কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত। প্রিয় নবীর কণ্ঠে আরও উচ্চারিত হয়েছে, নম্রতা যে কোনো বিষয়কে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে। আর কারও কাছ থেকে নম্রতা বিদূরিত করা হলে এটা তাকে কলুষিত করে ছাড়ে। রসুলে আরাবি (সা.) আরও ঘোষণা করেন, যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বিনয় ও নম্রতার নীতি অবলম্বন করে, আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। (মুসলিম শরিফ) মহান আল্লাহ যেন আমাদের ব্যবহার সুন্দর করার তৌফিক দান করেন।  আমিন!

লেখক : খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা।


আপনার মন্তব্য