Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ অক্টোবর, ২০১৭ ২৩:০৩

ডাক বিভাগ বিপন্নপ্রায়

বাঁচতে হলে সময়ের সঙ্গে থাকতে হবে

ডাক বিভাগ বিপন্নপ্রায়

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়েই টিকে থাকে সবকিছু। এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ বলেই ডাক বিভাগ তার গুরুত্ব ও অস্তিত্ব দুটিই হারাতে বসেছে। একসময় ডাক বিভাগ ছিল গ্রাম-শহরের সব মানুষের ভরসার স্থল। চিঠিপত্র আদান-প্রদানে ডাক বিভাগই ছিল জনপ্রিয় মাধ্যম। এ বিভাগের কর্মীরা বিশ্বস্ততার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতেন নাগরিকদের কাছে। ডাকে পাওয়া চিঠির অপেক্ষায় উন্মুখ থাকত গ্রাম-শহরের মানুষ। মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতি উন্নত প্রযুক্তির যুগে যোগাযোগের ক্ষেত্রে চিঠির ওপর নির্ভরশীলতা সীমিত হয়ে পড়েছে। চিঠিপত্রের যে সীমিত চাহিদা এখনো রয়েছে তার সিংহভাগই পালন করে বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসগুলো। চিঠিপত্র বা ডকুমেন্ট সময়মতো পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সুনাম থাকায় মানুষ সরকারি তকমা লাগানো ডাক বিভাগের শরণাপন্ন হয় না বললেই চলে। ফলে ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে এ মুহূর্তে টিকে আছে ডাক বিভাগ। সময়ের সঙ্গে থাকতে না পারার ব্যর্থতায় ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। দেশে বিদ্যমান ৯ হাজার ৮৮৬টি ডাকঘর অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। সারা দেশের ডাকঘরগুলোয় কর্মরত ৩৯ হাজার ৯০৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর জীবন-জীবিকা এখন হুমকির মুখে। এর মধ্যে ২৪ হাজার ডাক হরকরার অবস্থা সত্যিকার অর্থেই করুণ। ডাক বিভাগের পেছনে প্রতি বছর সরকারকে ২০০ কোটি টাকারও বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ বিভাগের কর্তাব্যক্তিরা গাঁজায় দম দিয়ে নিজেদের দুরবস্থাকে অস্বীকার করার প্রবণতায় ভুগছেন। এ বিভাগের শীর্ষ কর্তার আবিষ্কার ডাক বিভাগ নাকি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকে আছে। ২০১৩ সাল থেকে তারা লাভ করছেন। ২০০০ সালের পর ডাক বিভাগের চিঠি বিলির পরিমাণ ২০ শতাংশের নিচে নেমে এলেও কর্তাব্যক্তির ভাষ্য, তারা চিঠি রাখার জায়গা পাচ্ছেন না। ডাক বিভাগকে জিইয়ে রাখতে এ বিভাগের আধুনিকীকরণ সময়ের দাবি। বিভিন্ন দেশে আধুনিকায়নের মাধ্যমে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকে আছে ডাক বিভাগ। বাংলাদেশে ডাক বিভাগকে ডিজিটালাইজড করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সে কাজ চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। ডাক বিভাগের পরিবহনকাজ ট্রেন ও স্টিমারনির্ভর হওয়ায় কুরিয়ার সার্ভিসের চেয়ে চিঠি বা ডকুমেন্ট পৌঁছতে দ্বিগুণ সময় লাগছে। আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন খোদ এই বিভাগের কর্তাব্যক্তিরা। সময়ের সঙ্গে একাত্ম হয়ে টিকে থাকতে হলে এ অকাম্য অবস্থার পরিবর্তন আনতে হবে।


আপনার মন্তব্য