শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ মে, ২০১৮ ২৩:৩০

সড়ক দুর্ঘটনা

আইন পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়

সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যুর মিছিল অপ্রতিরোধ্যভাবে বাড়ছে। জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে ঘাতক বাস-ট্রাক চালকদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড। প্রতিদিনই কয়েক ডজন পরিবারে আর্তনাদ সৃষ্টি করছে সড়ক দুর্ঘটনা। যানবাহন মালিকদের সমিতি ও চালকদের ইউনিয়নের সঙ্গে ক্ষমতাধরদের আঁতাত থাকায় তাদের নিয়ন্ত্রণের সব চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে। আইন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক সড়কে মৃত্যু ঠেকাতে ট্রাফিক আইন পরিবর্তন করার তাগিদ দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, মানুষের পা চলে যাচ্ছে, হাত চলে যাচ্ছে, মাথা চলে যাচ্ছে— এভাবে তো কোনো সভ্য দেশ চলতে পারে না। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কেউ গাড়ি চালালে তার সর্বোচ্চ শাস্তি চার মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা। কার্যক্ষেত্রে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৪০০ টাকা জরিমানা করা হচ্ছে। লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর শাস্তি এমন হলে ড্রাইভিং লাইসেন্স নেওয়ার গরজ তেমন কেউ বোধ করবে না বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। এ সংক্রান্ত আইনে পরিবর্তন আনার ওপর অভিমত ব্যক্ত করেছেন তিনি। দেশে সড়ক দুর্ঘটনার যে মচ্ছব চলছে তার প্রধান কারণ আনাড়ি চালকদের দ্বারা গাড়ি চালানো। যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ১ হাজার ৮৭১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২ হাজার ১২৩ জন নিহত ও ৫ হাজার ৫৫৮ জন আহত হয়েছেন। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে এ বছর দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের ছয়টি বিভাগীয় হাসপাতালের তথ্যানুসারে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত চার মাসে মারা গেছেন ২০৬ জন। গত বছরের একই সময়ে ছোট-বড় ১ হাজার ৭৬৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৯৭৯ জন নিহত ও ৪ হাজার ৭২৭ জন আহত হয়েছিলেন। সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েছে চালকদের বেপরোয়া আচরণ। ইচ্ছা করে তারা মানুষের ওপর গাড়ি তুলে দিচ্ছে। অথচ সেসব ঘটনাও নিছক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই নৈরাজ্য বন্ধে শুধু আইনের পরিবর্তন আনা নয়, তা বাস্তবায়নেও উদ্যোগ নিতে হবে। পরিবহন মালিক ও চালকদের সঙ্গে মন্ত্রী এমপি রাজনীতিকদের অবাঞ্ছিত গাঁটছড়ারও অবসান ঘটাতে হবে।


আপনার মন্তব্য