শিরোনাম
রবিবার, ১০ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা

নাজাতের মাস মাহে রমজান

মুফতি মাও. মুহাম্মাদ এহছানুল হক মুজাদ্দেদী

নাজাতের মাস মাহে রমজান

রহমত-মাগফিরাতের দশক পেরিয়ে এখন আমরা দাঁড়িয়ে আছি নাজাতের দশকে। আমরা কতটুকু রহমত এবং মাগফিরাত অর্জন করেছি তা আল্লাহতায়ালাই ভালো জানেন। এখন আমাদের চেষ্টা করতে হবে, সর্বোচ্চ শক্তি-সামর্থ্য দিয়ে নাজাতের দশককে কাজে লাগানো। আল্লাহর দরবারে কেঁদে কেঁদে নাজাত অর্জন করতে পারলেই আমরা হব সবচেয়ে ভাগ্যবান রোজাদার। নয়তো আমাদের চেয়ে হতভাগা আর কেউ হবে না। রসুল (সা.) এর পবিত্র হাদিস শরিফ থেকে জানা যায়, একবার হুজুর (সা.) মিম্বরের প্রথম সিঁড়িতে পা রেখে বললেন আমিন। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সিঁড়িতেও পা রেখে একইভাবে বললেন আমিন। সাহাবিগণ (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, নবীজী আপনি প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় সিঁড়িতে পা রেখে আমিন বলেছেন। এর রহস্য কী? তখন রসুল (সা.) বললেন, জিবরাইল (আ.) তিনটি দোয়া করেছেন। আমি আমিন বলেছি। দোয়া তিনটি হলো- ধ্বংস তার জন্য যে রমজান মাস পেয়েও গোনাহ মাফ করিয়ে নাজাত নিশ্চিত করেনি। বৃদ্ধ বাবা-মাকে পেয়েও যে জান্নাত অর্জন করতে পারল না। আর রসুলে খোদা (সা.) এর পবিত্র নাম শুনেও যে দরুদ শরিফ পড়ল না। (মিশকাত শরিফ)। আরেকটি বর্ণনায় রসুল (সা.) বলেছেন, তার নাক ধুলায় মলিন হোক যে রমজান পেল অথচ নিজের গোনাহগুলো ক্ষমা করাতে পারল না। (মুসনাদে বাযযার)।

সঠিকভাবে রোজা রাখার মাধ্যমে আমাদের গোনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হবে। তাই এতদিন যেভাবে রোজা রেখেছি এখন আরও বেশি যত্নের সঙ্গে রোজা পালন করতে হবে। হুজুর (সা.) বলেছেন, ‘যখন কেউ রমজানের প্রথম দিন রোজা রাখে তখন তার পূর্বেকার সব গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। এমনিভাবে রমজান মাসের সব দিন চলতে থাকে এবং প্রতিদিন তার জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতা সকালের নামাজ থেকে শুরু করে তাদের পর্দার অন্তরালে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তার ক্ষমার জন্য দোয়া করতে থাকে। (কানযুল উম্মাল)। মহানবী (সা.) বলেন, ‘ফেরেশতারা রোজাদারের জন্য দিন-রাত ইস্তিগফার করতে থাকে’। (মাজমাউজ যাওয়ায়েদ)। এ ছাড়া হাদিস শরিফে এ বিষয়ে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, হজরত আবদুর রহমান বিন আওফ (রা.) বর্ণনা করেন, হুজুর (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে ইমানের সঙ্গে সোয়াব এবং ইখলাসের সঙ্গে ইবাদত করে সে নিজ গোনাহ থেকে এভাবে পবিত্র হয়ে যায় যেভাবে যেদিন সে তার মাতৃগর্ভ থেকে জন্মলাভ করেছিল’। (সুনানে নাসায়ি)। আমরা অবশ্যই সঠিকভাবে সিয়াম পালন করব। পাশাপাশি আল্লাহর কাছে কেঁদে কেঁদে জীবনের গোনাহগুলো মাফ চেয়ে নেব। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যখন আমার কোনো বান্দা আমার সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন বলে দিও, আমি তো কাছেই আছি। যখনই কেউ আমাকে ডাকে তখনই আমি তার ডাকে সাড়া দেই। সুতরাং, তারাও যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমাকে বিশ্বাস করে। তবেই তারা সঠিক পথ পাবে। (সূরা বাকারা, আয়াত-২৮৬)। আমরা আল্লাহতায়ালাকে ডাকব ক্ষমা পাওয়ার জন্য। ডকব অনন্ত জীবন আখেরাতে মুক্তি পাওয়ার জন্য। তিনি এত মহান দয়ালু যে, আমরা ক্ষমা চাইলেই তিনি ক্ষমা করে দেবেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমা করেন সব অপরাধ। (সূরা যুমার, আয়াত-৫৩)। অন্য আয়াত তিনি বলেন, আর যারা অশ্লীল কাজ করে এবং নিজের জীবনের ওপর অত্যাচার করে এবং আল্লাহকে স্মরণ করে নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে কে আছে আল্লাহ ছাড়া যিনি অপরাধ ক্ষমা করেন, তারা যা করেছে জেনেশুনে তার ওপর অটল না থাকে। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১৩৭)।

আসুন! মাহে রমজানের শেষ দশক-এ নাজাতের পবিত্র দশকে আমরা আরও বেশি নেক আমলের মাধ্যমে মাহে রমজানের ফায়দা অর্জন করি। এ দশকেই লুকিয়ে আছে লাইলাতুল কদর। আমরা যেন লাইলাতুল কদর তালাশ করতে পারি। আল্লাহতায়ালা আমাদের তৌফিক দিন। আমিন।

লেখক : বেতার টিভির ইসলামী উপস্থাপক, খতিব, মনিপুর বাইতুর রওশন (মাইকওয়ালা) জামে মসজিদ মিরপুর, ঢাকা।

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর