Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ জুলাই, ২০১৮ ২৩:৩২

নুরানি মানুষ তৈরি করে পবিত্র কোরআন

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

নুরানি মানুষ তৈরি করে পবিত্র কোরআন

দীর্ঘ খরার পর যখন মুষলধারে বৃষ্টি ঝরে, মৃত জমিন তখন সজীব হয়ে ওঠে। মরা ভূমি ফুল-ফসলে হেসে ওঠার জন্য প্রস্তুত হয়। কৃষকের মুখে হাসি ফোটে। বৃষ্টিস্নাত জমিনের বুকে বুনে দেয় স্বপ্ন-সম্ভাবনার বীজ। ফসল বেড়ে ওঠে। কৃষকের হাসিও বাড়তে থাকে। প্রিয় পাঠক! খেয়াল করুন, কয়েকদিন আগেও যে জমিন শুকিয়ে চৌচির ছিল, এখন সেখানে ফসলের হাসি ফুটেছে। ঠিক এ দৃশ্যটিরই কসম খেয়েছেন আল্লাহতায়ালা। তিনি বলেন, ‘শপথ, বৃষ্টিবর্ষণকারী আকাশের, যে বার বার বৃষ্টি ঝরায়। শপথ, খরায় ফেটে চৌচির জমিনের। যেখানে বৃষ্টির ছোঁয়ায় ফসলের হাসি ঝরে।’ সূরা তারিক : ১১-১২।

মরা জমিন সজীব হয়ে ওঠার দৃশ্যটি যেনতেন কথা নয়। সৃষ্টিরাজ্যে যতগুলো বিস্ময় রয়েছে এটি তার অন্যতম। তাই তো মরা জমিনের কসম খেয়েই আল্লাহ বলছেন, ‘মরা জমিনে ফসলের হাসি ফোটা যেমন সহজ কথা নয়, তেমন আমার এ কোরআনও সাধারণ কোনো গ্রন্থ নয়। এ নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করা চলে না।’ সূরা তারিক : ১৩-১৪। আকাশের বৃষ্টি যেমন জমিনকে সজীব করে দেয়, ঐশী বর্ষণ কোরআনও তেমন মানুষের মরা দিলকে জাগিয়ে দেয়। আমার আপনার মৃত আত্মাকে জাগাতে হলে অবশ্যই কোরআনের বর্ষণে সিক্ত হতে হবে। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে, কোরআনের বর্ষণে ভিজিয়ে যারা নিজের মরা দিল সজীব-সতেজ করে নিয়েছেন। আসুন! আমরাও আমাদের আত্মাকে কোরআনের বৃষ্টিতে ভিজিয়ে নিই। নিজেদের মনকে খোদার রঙে রাঙিয়ে নিই।

পাঠক হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন, কোরআনের বৃষ্টিতে ভিজেও কেউ কেউ মরা আত্মাকে জাগাতে পারে না কেন? এ প্রশ্নের উত্তরও কিন্তু আকাশের ওই বর্ষণের মধ্যেই রয়েছে। আকাশ যখন বৃষ্টি ঝরায়, সব ভূমিতেই ঝরায়। কিন্তু সব ভূমি কি বৃষ্টি ধারণ করে ফসল ফলানোর উপযোগী হয়? না, হয় না। যে ভূমিটা একটু উঁচু, সেখানে বৃষ্টি পড়ে, কিন্তু উঁচু হওয়ার কারণে বৃষ্টি ধারণ করতে পারে না। তেমনিভাবে যে মনটা অহংকারে নিজেকে উঁচু ভেবে কোরআনের বৃষ্টিতে ভেজে, সে কোরআনের হেদায়াত ধারণ করতে পারে না। বৃষ্টি ধারণ করে ফসল ফলাতে যেমন একটু নিচু, নম্র উর্বর ভূমির প্রয়োজন হয়, তেমনই খোদার রহমতে সিক্ত হতে একটু নরম, অহংমুক্ত আত্মার প্রয়োজন হয়।

সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভি (রহ.) একটি চমৎকার উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বুঝিয়েছেন তার ছাত্রদের। তিনি বলেন, বাবারা! আতরের বড় পাত্র তো দেখেছো। বড় পাত্র থেকে ছোট শিশিতে আতর রাখা হয়। আতর ঢালার সময় যদি ছোট্ট শিশি অহংকারে মুখ অন্যদিকে ফিরিয়ে রাখে, তবে কোনো দিন ওই শিশি আতর ধারণ করতে পারবে না। তেমনই কোরআনের মধু আহরণের সময় যদি মনটাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে রাখো, তাহলেও মনের শিশিতে কোরআনের মধু জমবে না। কোরআনের মধুর স্বাদ নিতে হলে কোরআনের দিকেই মন ঘুরিয়ে রাখতে হবে। প্রদীপ জ্বালাতে তেলের প্রয়োজন হয়। প্রদীপের মুখে যদি ঠিকঠাক তেল পড়ে, তবেই প্রদীপ জ্বলে উঠবে। তেমনি মনকে জাগাতেও কোরআন নামক জ্বালানির প্রয়োজন পড়ে। আপনি আমি যদি ঠিকভাবে কোরআনের শক্তি নিজেদের ভিতর ধারণ করতে পারি, তবেই আমাদের মনে কোরআনের আলো জ্বলে উঠবে।

লেখক : মুফাসসিরে কুরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।

চেয়ারম্যান : বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি।

www.selimazadi.com


আপনার মন্তব্য