Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২০ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ জুলাই, ২০১৮ ২৩:৩৫

মাছ উৎপাদনে সাফল্য

আত্মপ্রসাদ নয়, আরও এগোতে হবে

মাছ উৎপাদনে সাফল্য

মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশ্বের মধ্যে তৃতীয়। চীন ও ভারতের পর এখন বাংলাদেশের স্থান। গত বছর পর্যন্ত এ স্থান ছিল পঞ্চম। আর মাছের রাজা ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ যে সাফল্য দেখিয়েছে তা অন্য দেশের অনুসরণযোগ্য। এ বছর ইলিশের উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। মাছে-ভাতে বাঙালি এ পরিচয়টি হারিয়ে যেতে বসেছিল দেড় দশক আগে। গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে মাছ উৎপাদন বেড়েছে ৫ গুণেরও বেশি। মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের সামনে অপার সম্ভাবনা থাকলেও তা কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি নানা সীমাবদ্ধতার জন্য। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ ভারতকে টপকে বিশ্বের দ্বিতীয় মাছ উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়। তবে সেই সাফল্য ধরে রাখা যায়নি প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত, মিয়ানমার ও ভিয়েতনাম আরও দ্রুতগতিতে মাছ উৎপাদনে এগিয়ে যাওয়ায়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফাও) প্রতিবেদনে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করা হয়েছে। বাংলাদেশ মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ায় দেশের জনগণ এখন জনপ্রতি গড়ে ৬২.৫৮ গ্রাম মাছ গ্রহণ করছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, জনপ্রতি দরকার মাত্র ৬০ গ্রাম। জাটকা নিধন রোধের কার্যকারিতার দরুন ব্যাপক ইলিশ উৎপাদনের কারণে ২০১৭-১৮ সালে প্রায় ৫ লাখ টন ইলিশ উৎপাদিত হয়েছে, ২০০৮-০৯ সালে যা ছিল প্রায় ৩ লাখ টন। ২০১৬-১৭ সালে ৪০ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪১ লাখ ৩৪ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়েছে। ৮৪ হাজার মেট্রিক টন বেশি। বাঙালির পরিচয় ‘মাছে ভাতে বাঙালি’। মাছের প্রতি বাঙালির টান সেই প্রাচীন যুগেও আলোচ্য বিষয় বলে বিবেচিত হতো। মাত্র দেড় লাখ বর্গকিলোমিটারের চেয়েও কম আয়তনের বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখন ১৭ কোটির বেশি। নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুরসহ জলাধারের সংখ্যা হ্রাস পেলেও আধুনিক পদ্ধতিতে মাছের উৎপাদন বিস্ময়করভাবে বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। ২০১৭-১৮ সালে বাংলাদেশকে ৬৯ হাজার মেট্রিক টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে ৪ হাজার কোটি টাকা উপার্জিত হয়েছে। মাছ চাষিদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলে উৎপাদন এক দশকের মধ্যেই অন্তত দ্বিগুণ করা সম্ভব। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে মাছের ক্রমবর্ধমান হিস্সা আরও সন্তোষজনক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ারও সুযোগ রয়েছে। আমাদের মতে, কর্মসংস্থান ও আমিষের চাহিদা পূরণে মাছ উৎপাদনে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। মাছ উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয় হওয়ার সাফল্যে আত্মপ্রসাদ নয়, এ বিষয়ে আরও এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যয়ী হতে হবে।


আপনার মন্তব্য