শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:১৩

লজ্জাশীলতা ইমানের অপরিহার্য অঙ্গ

মাওলানা আবদুর রশিদ

লজ্জা ইমানের অপরিহার্য অঙ্গ। যার লজ্জা নেই, সে যা ইচ্ছা করতে পারে। আর লজ্জা মানুষকে প্রকৃত মানুষরূপে গড়ে তোলে। লজ্জার গুরুত্ব সম্পর্কে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুসারীদের তাগিদ দিয়েছেন।

হজরত আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ইমানের সত্তরের অধিক শাখা-প্রশাখা রয়েছে। তম্ম ধ্যে সর্বোত্তম হলো আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নেই। এ কথা বলা এবং সর্বনিম্ন স্তর হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো। আর লজ্জা হলো ইমানের একটি শাখা। (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত হা/৫, ইমান অধ্যায়)। হজরত ইবনে ওমর (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : লজ্জা ও ইমান অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। সুতরাং এর একটি তুলে নেওয়া হলে অপরটিও তুলে নেওয়া হয়। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর এক বর্ণনায় আছে ‘যখন উভয়ের কোনো একটিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়, তখন অপরটিও তার পশ্চাতে অনুগমন করে। (বায়হাকি, হাকিম, সহিহ আত-তারগিব, হা/২৬৩৬; মিশকাত হা/৫০৯৩)।

হজরত আবু উমামা (রা.) রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন : তিনি বলেন, লজ্জা ও অল্প কথা বলা ইমানের দুটি শাখা। আর অশ্লীলতা ও বাকপটুতা (বাচালতা) মুনাফিকীর দুটি শাখা। (তিরমিজি, হা/২০২৭; মিশকাত হা/৪৭৯৬)।

হজরত যায়েদ ইবনে তালহা (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : প্রত্যেক দীনের একটি বিশেষ স্বভাব আছে। আর দীন ইসলামের বিশেষ স্বভাব হলো লজ্জাশীলতা। (মুত্তাফাক আলাইহি, সহীহ আত-তারগীব, হা/২৬৩২; মিশকাত হা/৫০৯০)। হজরত ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : লজ্জাশীলতা পুণ্য ও কল্যাণ ব্যতীত আর কিছুই আনয়ন করে না। অন্য বর্ণনায় আছে, লজ্জার সর্বাংশই উত্তম। (বুখারি, মুসলিম, মিশকাত হা/ ৫০৭১)

হজরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : নির্লজ্জতা কোনো জিনিসের মধ্যে থাকলে তাকে ত্রুটিপূর্ণ করে। আর লাজুকতা কোনো জিনিসের মধ্যে থাকলে তার শ্রী বৃদ্ধি করে। (সহিহ আততারগিব হা/২৬৩৫)। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : হে আয়েশা! লজ্জাশীলতা যদি কোনো লোক হয়, তাহলে সে হবে সৎ ব্যক্তি। আর অশ্লীলতা (লজ্জাহীনতা) কোনো লোক হলে নিশ্চয়ই সে হবে নিকৃষ্ট লোক। (সহিহ আততারগিব হা/২৬৩১)। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : লজ্জা ইমানের অঙ্গ। আর ইমানের স্থান জান্নাত। পক্ষান্তরে নির্লজ্জতা দুশ্চরিত্রের অঙ্গ। দুশ্চরিত্রের স্থান জাহান্নাম। (আহমাদ, তিরমিজি, বঙ্গানুবাদ, মিশকাত হা/৪৮৫৬)।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : পূর্ববর্তী নবীগণের বাণী হতে পরবর্তী লোকেরা (অবিকৃতাবস্থায়) যা পেয়েছে (এবং যা অদ্যাবধি বিদ্যমান) তা হলো তুমি যখন বেহায়া হয়ে যাবে, তখন তোমার যা ইচ্ছা তাই কর। (বুখারি, মিশকাত হা/৫০৭৩)। হজরত কুররাহ ইবনে ইয়াস (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলাম। তাঁর কাছে লজ্জাশীলতার কথা উল্লেখ করা হলো। সাহাবায়ে কেরাম বলেন, হে আল্লাহর রসুল!  লজ্জাশীলতা হচ্ছে দীনের অংশ। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বরং সেটা (লাজুকতা) হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ দীন। (সহিহ আততারগিব, হা/২৬৩০)।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে লজ্জাশীল হওয়ার  তাওফিক দান করুন।

            লেখক : ইসলামী গবেষক।


আপনার মন্তব্য