শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ২২:২০

শীতার্তদের পাশে দাঁড়ালে আল্লাহ খুশি হবেন

যুবায়ের আহমাদ

শীতার্তদের পাশে দাঁড়ালে আল্লাহ খুশি হবেন

আল্লাহতায়ালার ইচ্ছায়ই ঋতুর পালাবদল হয়। বছরে কখনো হাড়কাঁপানো শীত, কখনো গ্রীষ্মের খরতাপ আল্লাহরই কুদরতের নিদর্শন। শীত নিবারণের জন্য প্রয়োজন হয় শীতবস্ত্রের। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় অনেক গরিব মানুষকে শীতকালে কষ্ট করতে হয়। ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের প্রকোপে নিদারুণ কষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করতে হয় আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লাখো শিশু, বৃদ্ধ ও নারী-পুরুষকে। ছিন্নমূল অসহায় মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত মোকাবিলার ব্যর্থ চেষ্টা করে।

সমাজের বিত্তবান মানুষের সামান্য ভালোবাসা ও সহানুভূতিই শীতার্ত মানুষকে এ সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। আমাদের সামান্য সহযোগিতা শীতার্তদের দিতে পারে উষ্ণতার পরশ আর এর মাধ্যমে আমরা পেতে পারি আল্লাহর ভালোবাসা। শীতার্ত জনগোষ্ঠীর কষ্ট লাঘব করতে সাধ্যমতো শীতবস্ত্র সরবরাহ করে তাদের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় ও মানবিক কর্তব্য। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ধরনের অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন তাঁর উম্মতকে। তিনি বলেন, ‘জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া কর, আকাশে যিনি আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।’ তিরমিজি।

শৈত্যপ্রবাহসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয় মুমিনদের জন্য পরীক্ষা। আল্লাহ এর দ্বারা মুমিনদের পরীক্ষা করে দেখেন কারা আল্লাহর দেওয়া সম্পদের সামান্য ব্যয় করে শীতবস্ত্র বা প্রয়োজনীয় বস্তু নিয়ে আল্লাহর অভাবী বান্দাদের বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। এ পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হয়ে সামর্থ্যবান হওয়া সত্ত্বেও যারা শীত বা অন্যান্য দুর্যোগের সময় অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসে না তাদের জন্য আল্লাহ তাঁর দয়া সংকুচিত করে দেন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না তার প্রতিও দয়া করা হয় না।’ তিরমিজি।

পক্ষান্তরে যারা শীতার্ত মানুষের এই দুঃখের দিনে সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করে তার এ মুসিবত দূর করবে আল্লাহ তাদের পরকালের বিপদ থেকে উদ্ধার করবেন। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের পার্থিব একটি মুসিবত দূর করবে, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তার মুসিবতগুলো দূর করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো অভাবী মানুষকে সচ্ছল করে দেবে, আল্লাহ তাকে ইহকাল ও পরকালে সচ্ছল করে দেবেন এবং আল্লাহ সেই বান্দার সাহায্য করবেন যদি বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্য করে।’ মুসলিম।

শীতার্ত মানুষকে প্রয়োজনীয় বস্ত্র দিয়ে যে জান্নাতের মহা নিয়ামত লাভে ধন্য হওয়া যাবে তা আরও স্পষ্ট হয়েছে আরেকটি হাদিসে। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো বস্ত্রহীনকে কাপড় পরাবে আল্লাহ তাকে জান্নাতের সবুজ রেশমি কাপড় পরাবেন। যে ব্যক্তি কোনো ক্ষুধার্থ ব্যক্তিকে আহার করাবে আল্লাহ তাকে জান্নাতের ফল খাওয়াবেন। যে ব্যক্তি কোনো তৃষ্ণার্তকে পানি পান করাবে মহামহিম আল্লাহ তাকে জান্নাতের পবিত্র প্রতীকধারী শরাব পান করাবেন।’ আবু দাউদ। বস্ত্রহীনকে বস্ত্র দিলে জান্নাতের সবুজ রেশমি পোশাক পরতে পারব আমরা। অপচয় ও অপব্যয় রোধ করে অপচয়/অপব্যয়ের গুনাহ থেকে বেঁচে সে অর্থে ১০০/২০০ টাকায় আমাদের নিকটস্থ অভাবী মানুষটিকে একটি শীতবস্ত্র কিনে দিয়ে আমরাও পেতে পারি জান্নাতের সেই সবুজ রেশমি পোশাক। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন!

লেখক : জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কারি ও খতিব, বাইতুশ শফীক মসজিদ, বোর্ডবাজার

(আবদুল গনি রোড), গাজীপুর।


আপনার মন্তব্য