শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:৩০

ধর্মতত্ত্ব

এক মুসলমান অন্য মুসলমানের ভাই

মুহম্মাদ ওমর ফারুক

এক মুসলমান অন্য মুসলমানের ভাই

মুসলমানরা ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থাকবে এমন তাগিদ দিয়েছেন মহান স্রষ্টা আল্লাহ। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে তার ওপর না জুলুম করতে পারে, না তাকে অসহায় অবস্থায় পরিত্যাগ করতে পারে এবং না তাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে পারে।’ তিনি নিজের বুকের দিকে ইশারা করে বলেন, ‘তাকওয়া এখানে, তাকওয়া এখানে, তাকওয়া এখানে। কোনো লোকের নিকৃষ্ট সাব্যস্ত হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছজ্ঞান করে। প্রত্যেক মুসলমানের জীবন, ধনসম্পদ ও মানসম্মান প্রত্যেক মুসলমানের সম্মানের বস্তু (এর ওপর হস্তক্ষেপ করা তাদের জন্য হারাম।’ মুসলিম থেকে মিশকাতে।

এ হাদিসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ১. ইসলামী ভ্রাতৃত্বের দাবি হচ্ছে- এক মুসলমান অন্য মুসলমানের ওপর নিজেও জুলুম করবে না, তাকে জালিমের হাতেও তুলে দেবে না এবং নিজের আর্থিক, বংশীয়, দৈহিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রাধান্যের ভিত্তিতে অন্যকে তুচ্ছজ্ঞান করবে না। আতিয়া আস-সাদি (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি পাপ কাজে জড়িয়ে পড়ার ভয়ে (বাহ্যত) যেসব কাজে গুনাহ নেই তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত আল্লাহভীরু লোকদের শ্রেণিভুক্ত হতে পারে না।’ তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ থেকে মিশকাতে।

উপরোক্ত হাদিসের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, কখনো কখনো বৈধ কাজ অবৈধ কাজে জড়িয়ে পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই কোনো মুমিনের সামনে কেবল বৈধতার দিকটিই উপস্থিত থাকবে না; বরং এ বৈধ কাজ কোথাও যেন হারাম কাজে জড়িয়ে পড়ার কারণ না হয়, সেদিকেও তাকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘হে আয়েশা! ছোটখাটো গুনাহর ব্যাপারেও সতর্ক হও। কেননা এজন্যও আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। ইবনে মাজাহ থেকে মিশকাতে।

কবিরা গুনাহ যেমন কোনো মুসলমানের মুক্তিলাভকে বিপদগ্রস্ত করে দেয়, তেমনি ছোটখাটো গুনাহও কম বিপদ নয়। ছোটখাটো গুনাহ বাহ্যত হালকা ও তুচ্ছ মনে হলেও তা বার বার করার কারণে অন্তরাত্মায় মরিচা ধরে যায় এবং কবিরা গুনাহর প্রতি ঘৃণাবোধ নিঃশেষ হয়ে যায়। হাফেজ ইবনুল কাইয়িম (রহ.) লিখেছেন, ‘গুনাহ কত ছোট তা দেখ না; বরং সেই মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব সামনে রাখো যার অবাধ্য হওয়ার দুঃসাহস দেখানো হচ্ছে।’ বিচার দিনের মালিকের মহত্ত্ব এবং তাঁর ভয়ঙ্কর শাস্তির কথা স্মরণ থাকলে মানুষ ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর গুনাহেরও দুঃসাহস দেখাতে পারে না।

লেখক :

ইসলামবিষয়ক গবেষক


আপনার মন্তব্য