শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:৩৯

ঋণখেলাপি রোধে আইন

ছাই দিয়ে ধরার মনোভাব থাকতে হবে

ঋণখেলাপি রোধে আইন

বার বার ঘুঘু যাতে ধান খেয়ে যেতে না পারে তা নিশ্চিত করতে সরকার ঋণখেলাপি নামের ঘুঘুদের আটকানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হচ্ছে আইন। যে আইনে ঋণখেলাপিদের সম্পদ ক্রোকের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে। এ ছাড়া একই আইনের আওতায় প্রস্তাবিত অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির মাধ্যমে খেলাপিদের সম্পদ জব্দ করে বিক্রির ক্ষমতা দেওয়া হবে। অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একজন যুগ্মসচিবকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয়েছে গত ২১ মার্চ। ওই কমিটির সুপারিশ এখন অর্থমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কমিটির সুপারিশে বলা হয়, অর্থঋণ আইন ও দেউলিয়া আইনের ধারাগুলো অত্যন্ত দুর্বল। ফলে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে কাজে আসে না। ঋণখেলাপিরা খুব সহজেই আদালতে রিট করে দায়ের করা মামলা আটকে দেন। ফলে ঋণের টাকা উদ্ধার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। কমিটি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠনের জন্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে ওই কোম্পানির মাধ্যমে খেলাপি ঋণ আদায়ের সুপারিশ করেছে। খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তা ঋণখেলাপিদের সম্পদ ক্রোকের ক্ষমতা ব্যাংকের ওপর অর্পণ এবং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠনের উদ্যোগ সে সত্যকে তুলে ধরেছে। এ বিবেচনায় উদ্যোগটি প্রশংসার দাবিদার। তবে খেলাপি ঋণ আদায়ের উদ্যোগ সম্পর্কে দেশবাসীর অভিজ্ঞতা খুব বেশি সুখকর নয়। তারা অসহায়ভাবে দেখেছে প্রতিটি সরকার ঋণ খেলাপের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে একেকটি আইন তৈরি করছে। আইন তৈরি করে যথারীতি দেশবাসীর বাহ্বাও নিচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। আইনগুলো ঋণ খেলাপের বিরুদ্ধে হওয়ায় তলোয়ার ঘোরানোর কসরতই শুধু দেখিয়ে চলছে। প্রস্তাবিত আইনে খেলাপি ঋণ আদায়ে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠনের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তাতে কোম্পানিগুলো আদায়কৃত অর্থের ২০, ৩০ বা ৫০ শতাংশ সার্ভিস চার্জ হিসেবে নিতে পারবে। সোজা কথায় আইন নামের আলাদিনের চেরাগের বদৌলতে খেলাপি ঋণ আদায়ে সাফল্য এলেও তার প্রায় অর্ধেকাংশ চলে যাবে ব্যাংক নয়, অন্যের পকেটে। ব্যাংক ঋণ দেওয়া হয় ব্যাংকে সঞ্চিত জনগণের টাকা থেকে। সে টাকা ঋণ হিসেবে নিয়ে লোপাট করা সম্ভব হচ্ছে লোপাটকারীদের ছাই দিয়ে ধরার মনোভাবে ঘাটতি থাকায়। সে ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে নজর দেওয়া হবে- আমরা এমনটিই দেখতে চাই।

 


আপনার মন্তব্য