প্রকাশ : সোমবার, ১৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ মে, ২০১৯ ২৩:৪৩

রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের রমজান

মুহম্মাদ ওমর ফারুক

রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের রমজান

রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস রমজান। এ মাসে মহান আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতের অশেষ নিয়ামত তাঁর বান্দাদের দান করেছেন। কোনো বান্দা সে সবের প্রতি মনোযোগী হলে দোজাহানে সে সফলতা লাভ করবে। এ মাস মানুষকে ধৈর্য ও সহমর্মিতার মতো মহৎ গুণ শিক্ষা দেয় আর এ গুণগুলো মানুষের সফলতার চাবিকাঠি। যেমন এ মাসের আগমন উপলক্ষে হজরত রসুলে করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘হে লোক! এক মহান মাস তোমাদের মাঝে সমাগত। এটি হলো বরকতময় মাস, ধৈর্য ও সহমর্মিতার মাস।’ এ ধৈর্য ও সহমর্মিতার শিক্ষা দিয়ে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রোজা ঢালস্বরূপ। সুতরাং কেউ যেন এ মাসে অশ্লীল ও মূর্খতাসুলভ কাজ না করে। যদি কেউ তার সঙ্গে লড়াই-ঝগড়া করতে চায় তাহলে সে যেন বলে আমি রোজাদার।’ এ মাসে মানুষ দীর্ঘক্ষণ পানাহার থেকে বিরত থেকে ধৈর্য ও সংযমের অভ্যাস গড়ে তোলে। এর বিনিময়স্বরূপ আল্লাহ তাকে দেবেন পরকালের শান্তি-সমৃদ্ধি। ইরশাদ হয়েছে, ‘সুতরাং সে যাপন করবে           সন্তোষজনক জীবন, সুউচ্চ জান্নাতে। আর ফলরাশি অবনমিত থাকবে নাগালের মধ্যে। তাদের বলা হবে পানাহার কর তৃপ্তির সঙ্গে তোমরা অতীত দিনে যা করেছিলে তার বিনিময়ে’ (সূরা আল হাক্কা ৬৯:২১-২৪)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘যখন রমজানের আগমন ঘটে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় আর শয়তানকে শিকলে আবদ্ধ করা হয়’ (বোখারি, মুসলিম)। হিজরি সনের নবম মাস হলো রমজানুল মোবারক। এ মাসের মর্যাদা ও মাহাত্ম্য আল্লাহতায়ালার এক বিশেষ দান। তিনি এ মাসের দিন ও রাতে দান করেছেন মুষলধারে অশেষ বরকত ও অফুরন্ত কল্যাণ।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘মাহে রমজান, যাতে নাজিল করা হয়েছে কোরআন যা মানুষের জন্য হেদায়াত ও সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা এবং হেদায়াত ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাসে উপস্থিত হয় সে যেন সারা মাস রোজা রাখে’ (সূরা বাকারা : ১৮৫)। রসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেন, মাহে রমজানের প্রথম ১০ দিন হলো রহমতের, তাই আল্লাহতায়ালার কাছে বেশি বেশি করে রহমত-করুণা চাইতে হবে। জীবিতদের জন্য রহমত চাইতে হবে, মৃতদের জন্য রহমত চাইতে হবে এবং গোটা উম্মতের জন্য রহমত চাইতে হবে। রমজান মাসে আল্লাহর রহমত পাওয়ার জন্য আল্লাহর মাখলুকের প্রতি দয়া করতে হবে। রসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা দুনিয়াবাসীর প্রতি দয়া দেখাও তাহলে আল্লাহতায়ালা তোমাদের প্রতি রহমত নাজিল করবেন’ (তিরমিজি)। হজরত আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলে করিম (সা.) এরশাদ করেন, ‘আল্লাহ রব্বুল আলামিন নিজের ওপর অবধারিত করে দিয়েছেন যে ব্যক্তি তার সন্তুষ্টির জন্য গ্রীষ্মকালে রোজা রেখে পিপাসার্ত থেকেছে তিনি তাকে কিয়ামতের দিন পানি পান করাবেন।’ আল্লাহ আমাদের সবাইকে রোজা রাখার এবং কোরআন হাদিস প্রদর্শিত পথে চলার তাওফিক দান করুন।

লেখক : ইসলামী গবেষক।


আপনার মন্তব্য