শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২২ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ মে, ২০১৯ ২৩:১৮

মাহে রমজানে বেশি দোয়া করা উচিত

মুহম্মাদ ওমর ফারুক

মাহে রমজানে বেশি দোয়া করা উচিত

রমজান হলো রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস। এ মাস আল্লøাহর প্রিয় মাস। আল্লাহ চান তাঁর প্রিয় এই মাসে বান্দা তাঁর কাছে আবেদন করুক। সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজেকে মুখাপেক্ষী মনে করুক। এ চাওয়াটাই হলো দোয়া। আল্লাহ এ দোয়ায় সাড়া দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সূরা আল বাকারার ১৮৫ ও ১৮৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আমার বান্দা যখন আমার ব্যাপারে তোমার (রসুল) কাছে জানতে চায় (তুমি বল) আমি তো তোমাদের নিকটেই আছি। কোনো প্রার্থী আমার কাছে যখনই কিছু চায় তখনই আমি সাড়া দিই।’ একইভাবে আল্লাহ সূরা মুমিনের ৬০ নম্বর আয়াতে বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। তবে আল্লাহ তখনই সাড়া দেবেন যখন বান্দা সাড়া দেওয়ার উপযোগী কায়দায় দোয়া পড়বে। আল্লাহকে হাজির-নাজির মেনে বিনীতভাবে তাঁর করুণা প্রার্থনা করবে।’

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘দোয়াই হলো আসল ইবাদত।’ আসহাবে সুনান। কেন তিনি একে আসল ইবাদত বলেছেন? এর কারণ হলো বান্দা যখন আল্লাহর কাছে করুণা চায় তখন এই চাওয়ার মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে। সে যে সব ক্ষেত্রে আল্লাহর মুখাপেক্ষী তা বিনীতভাবে স্বীকার করে। তবে আল্লাহর মুখাপেক্ষী বান্দাকে আল্লাহর সব নির্দেশ মেনে চলতে হবে। নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত যেসব ইবাদত তার জন্য প্রযোজ্য সবকিছু আন্তরিকতা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে পালন করতে হবে। বান্দাকে সমর্পিত মনোভাবের অধিকারী হতে হবে। কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনায় চলার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে বান্দার দোয়ার চেয়ে বেশি প্রিয় আর কিছু নেই।’ তিনি একে সব ইবাদতের নির্যাস হিসেবেও ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ পরম করুণাময়। আল্লাহর এ পরিচয় তখনই মূর্তমান হয় যখন বান্দা করুণাভরে আল্লাহর রহমত চায়। যে কারণে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যার জন্য দোয়ার দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে তার জন্য রহমতের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে।’

অর্থাৎ দোয়া ও রহমতপ্রাপ্তি একটি অন্যটির অনুষঙ্গ। একমাত্র আল্লাহর প্রতি অনুগতরাই তাঁর কাছে করুণা ভিক্ষা করার যোগ্য। মাহে রমজানে আল্লাহ আমাদের সে যোগ্যতা অর্জনে তাওফিক দান করুন। আমাদের জন্য তাঁর রহমতের দরজা উন্মুক্ত করুন।

                লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।


আপনার মন্তব্য