Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ জুন, ২০১৯ ২২:৪৮

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান

ঢাকা-ওয়াশিংটন ঐকমত্য স্বস্তিদায়ক

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনে দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত সপ্তম অংশীদারিত্ব সংলাপে মিয়ানমারে নিরাপদ, টেকসই ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারেও দুই দেশের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ পেয়েছে। বাংলাদেশে এক বছরের বেশি সময় ধরে অবস্থান করছে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। মিয়ানমার মুখে তাদের নাগরিকদের ফেরত নেওয়ার কথা বললেও এজন্য যথোপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় রোহিঙ্গারা ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফিরতে রাজি হচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার ব্যাপারে সে দেশের আদৌ আগ্রহ আছে কিনা তা নিয়ে ইতিমধ্যে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই রোহিঙ্গা সমস্যার হাত থেকে রক্ষা পেতে চায়। যে কারণে তারা মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তিতেও আবদ্ধ হয়েছে। কিন্তু প্রতিবেশী দেশের কথা ও কাজে মিল না থাকায় রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন জটিল হয়ে উঠছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, ভূরাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশের দুই বড় প্রতিবেশী ভারত ও চীন এ ইস্যুতে ধরি মাছ না ছুঁই পানি নীতি গ্রহণ করেছে। রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে উভয় দেশ নীতিগত সমর্থনের কথা জানালেও মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের যে অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত সে বিষয়টিও হিসাবে রাখছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থনই বাংলাদেশের জন্য ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে ওয়াশিংটনের সমর্থন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিছক এই সমর্থনে সন্তুষ্ট থাকার অবকাশ নেই। ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার কারণেই দুই প্রতিবেশী বন্ধুদেশ চীন ও ভারতকে আরও সক্রিয় করা এখন বাংলাদেশের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশা করা যায়, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরকালে এ বিষয়ে বেইজিংয়ের সমর্থন পাওয়া যাবে। ভারতের সমর্থন পেতেও সরকারকে সক্রিয় হতে হবে। আমরা আশা করব, বাংলাদেশকে ১১ লাখের বেশি বিদেশি নাগরিকের বোঝা থেকে পরিত্রাণ দিতে চীন ও ভারত সহায়তার হাত বাড়াবে। এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে রোহিঙ্গা সমস্যার শান্তিপূর্ণ ও সম্মানজনক সমাধান সবারই কাম্য হওয়া উচিত। বন্ধুত্বের স্বার্থেই তারা এ ব্যাপারে সুমতি ও সুবিবেচনার পরিচয় দেবেন- এমনটিই প্রত্যাশিত।


আপনার মন্তব্য