শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:১৫

অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন

অসীম প্রতীক্ষার ইতি ঘটুক

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর বাংলাদেশের সঙ্গে তার দেশের সম্পর্ককে রোল মডেল হিসেবে অভিহিত করেছেন। বলেছেন তিস্তার পানি বণ্টন সম্পর্কে ভারতের দেওয়া আগের প্রতিশ্রুতিতে তারা এখনো অনড় রয়েছেন। তিস্তা শুধু নয়, অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানি বণ্টনের ফর্মুলা খুঁজতে দুই দেশের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার বিষয়ও তিনি নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক গত এক দশকে পারস্পরিক আস্থার পরিপূরক হিসেবে গড়ে উঠেছে। এ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথম বিদেশ সফরে বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছেন। আসামে বিতর্কিত নাগরিকত্ব ইস্যু সম্পর্কে তিনি সরাসরি বলেছেন, এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সফরকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। ভারত সফরের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেছেন। স্পষ্টভাবে বলেছেন, শেখ হাসিনা ও মোদির আমলেই তিস্তা চুক্তি সম্পাদন হবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনেও ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া গেছে সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি। রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে নিরাপদ, দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে সব ধরনের সহায়তাদানের কথাও বলেছেন ড. সুব্রানিয়াম জয়শঙ্কর। বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতের জাতীয় স্বার্থে এটা করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী পানি বণ্টন সম্পর্কে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাতে কার্যত নতুন কিছু নেই। তিস্তা চুক্তি সম্পর্কে বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রতীক্ষা যাতে বিরক্তিকর উপাদানে পরিণত না হয় সে ব্যাপারে নজর রাখা বাঞ্ছনীয়। ৫৪ নদীর পানি বণ্টনের ফর্মুলা খোঁজার মধ্যেও রয়েছে চর্বিতচর্বণ। দুই দেশের আস্থার সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ফর্মুলা খোঁজার দীর্ঘসূত্রতার বদলে বণ্টনের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো দরকার। বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় জোর দিচ্ছে। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তা নয়াদিল্লিরও আস্থা কুড়িয়েছে। এ আস্থা ধরে রাখতে পানি বণ্টনের স্পর্শকাতর সমস্যার আশু সমাধান জরুরি। বৃহৎ প্রতিবেশী এবং উজানের দেশ হিসেবে ভারতকে এ ইস্যুতে উদার দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিতে হবে। দুই দেশের বন্ধুত্ব সরকার পর্যায় থেকে জনগণের বন্ধুত্বে পরিণত করতে জটিল সমস্যাগুলোর আশু সমাধান সময়ের দাবি।


আপনার মন্তব্য